কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

203

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২ বছর ইন্টার্নশিপের প্রস্তাবনা বাতিল এর দাবিতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।আজ সকাল ১০ টাই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস এর সামনে শিক্ষার্থীরা এ মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এসময় বক্তারা বলেন সরকারি নতুন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে একটি মেডিকেল শিক্ষার্থীকে পাঠ্যপুস্তকের অধ্যয়ন শেষে ২ বছর ইন্টার্নি(শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ) করতে হবে যার প্রথম বছর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেনারেল হাসপাতালে ও পরের ১ বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

কিন্তু এমন শর্ত মানতে রাজি নন শিক্ষার্থীরা তারা বলেন অন্যান্য রাষ্ট্রের যেখানে ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে গ্রাজুয়েশন শেষ করে পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসায় নিয়োজিত আছে,কিন্তু বাংলাদেশের পেক্ষাপটে দুই বছর ইন্টারনি সহ গ্রাজুয়েশন শেষ করতে মোট সময় লাগবে আট বছর, এছাড়াও যারা মেডিকেলে পড়াশোনা করে তারা ইন্টার্নি করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবহন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে অনেকটা। বিশেষ করে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইন্টার্নি করতে গেলে মেয়েরা বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। তাই আমাদের একটাই দাবি দুই বছর ইন্টারনি প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ দেয়া হোক।

এসময় বক্তারা আরো বলেন ইন্টার্নরা হলো শিক্ষানবিস ডাক্তার।তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তারদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা দেওয়া শিখছে।তারা এখনো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসক হয়ে উঠেনি। তাদের কাঁধে কিভাবে উপজেলার এতোগুলো মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিৎ? সর্বস্তরের জনগনের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে রেজিস্টার্ড ডাক্তাররা।

উপজেলাতে ডাক্তার নিয়োগ না দিয়ে খালি পোষ্ট গুলো পুরণ করতে ইন্টার্নদের কেনো বলি দিতে হবে? আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৫.৫ বছরে MBBS আর তার ২ বছরের মাথায় MD/MS শেষ করে তারা ৮ বছরের মধ্যে স্পেশালিষ্ট ডাক্তার হচ্ছে।আর আমাদের দেশে প্রস্তাবিত নিয়মে MBBS শেষ করতেই সময় লাগবে প্রায় ৭.৫বছর।আর স্পেশালিস্ট হতে কত সময় লাগছে প্রায় ১৭-২০ বছর। ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের চিকিৎসা দেবার পরিধি খুবই কম।

রেসিস্টার্ড ডাক্তার না নিয়োগ দিয়ে ইন্টার্ণ ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া ব্যাপার টা দাড়াচ্ছে”ভাতের ক্ষুধা পানিতে মেটানো।” এসময় মানব বন্ধন এ অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে বলেন উপজেলায় পোস্ট খালী ইন্টার্নশিপ কেন হবে বলি, প্রশাসন এর প্রজ্ঞাপন মানিনা মানবোনা, কুচক্রী মহল এ কাল হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও,জেগেছে রে জেগেছে কুষ্টিয়া মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা জেগেছে, লেগেছে রে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে। এসময় মেডিকেল এর শিক্ষার্থীরা বলেন আমাদের দাবী যদী প্রশাসন না মানে তাহলে আমরা আরো কঠো আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র শাওনুজ্জামান শাওন, সজিবুর রহমান,সবুজ রানা,আতিক রাব্বানী রাশহা নিলয়। উক্ত মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি একাত্মতা ঘোষণা করে অংশগ্রহণ করেন ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে শাখার ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সভাপতি আসহাব শাহারিয়ার টমাস,২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সভাপতি হোসেন মোহাম্মদ আরজু সহ সকল বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।