পুলিশে চাকরি পাওয়া ৭৫ জনের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছাপ

208

জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া।। চাকরি পাওয়া ৭৫ জনের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছাপ সোনিয়া আক্তার দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়ার সেই সামর্থ্য নেই তার। তবে এবার তিনি শুনেছেন চাকরিতে কোনো ঘুষ দেয়া লাগবে না। পুলিশের এমন প্রচারণায় আবেদন করেছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও উদ্বুদ্ধ করা হয় তাকে। শারীরিক ফিটনেস কিংবা মেধা দুটিই ছিল তার।

তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল বেশ। মাত্র ১০৩ টাকায় হয়েও গেল চাকরি। এ যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বলছিলাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক দিদার আলীর মেয়ে সোনিয়ার কথা। চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। শনিবার (৬ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে জাতীয় দৈনিক প্রভাতী খবরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান সোনিয়া।

জানা গেছে, আজ দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে চাকরি পাওয়া ৭৫ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের মিষ্টি মুখ করানোসহ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। সোনিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পুলিশ সুপারের প্রতি। বিনা পয়সায় চাকরির সুযোগ পেয়ে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। শুধু সোনিয়াই নয়, তার মতো চাকরি পাওয়া বাকিদের জীবনের গল্পও প্রায় একই রকম। চাকরি পাওয়ার পর সবার চোখেমুখে ছিল আনন্দের ছাপ। তারা সবাই পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশে চাকরি পাওয়া কুমারখালী উপজেলার মানিক কুমার ঘোষ জাতীয় দৈনিক প্রভাতী খবরকে বলেন, ‘ঘুষ ছাড়াও এখন পুলিশে চাকরি হয়। চাকরি পাওয়ার খবরে আমার পরিবার অনেক খুশি হয়েছে।’ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জাতীয় দৈনিক প্রভাতী খবরকে বলেন, ‘আমার চ্যালেঞ্জ ছিল ঘুষ ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি সফল হয়েছি। প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পেয়েছে। মাত্র ১০৩ টাকায় চাকরি হয়েছে।

’ প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই কুষ্টিয়ায় প্রাথমিকভাবে দুই হাজারেও বেশি পুলিশে চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করেন। এসবের মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষায় সুযোগ পায় মাত্র ৩শ জন। এর থেকে আবার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয় ৭৫ জনের নাম। শনিবার তাদের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মিষ্টি মুখ ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার।