বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী”র ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ ফেব্রয়ারি-২০২০।

ছবি: বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী।
ছবি: বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী।

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সাধনে এবং শোষনমুক্ত সমাজ গঠনে যে সকল চিন্তাবিদ ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যাক্তি কালের অমোঘ বিধানে আপন মহীমায় চির ভাস্বর হয়ে আছেন বিংশ শতাব্দীর ক্ষণজন্মা পুরুষদের মধ্যে অন্যতম বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী। মারফত আলী ১৯৪৪ সালে ১২ এপ্রিল মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের মালিহাদ গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতা  মৃত মকছেদ আলী, মাতা  রমেছা খাতুন। শৈশবে তিনি মালিহাদের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত সহপাঠিদের সাথে কাটান। তাহার শিক্ষা জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। আলমডাঙ্গার হাট বোয়ালীয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপন করে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ হতে বি,এস,সি, ডিগ্রী লাভ করেন। স্কুল ও কলেজে অধ্যায়ন কালে তিনি বিভিন্ন রাজনীতিবিদের সহিত ঘনিষ্ঠ সহচর্যের কারনে মেজাজের দিক দিয়ে রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তিনি একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। কুষ্টিয়া কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ১৯৬৮- ৬৯ সালে সাধারন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।

তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৬ দফা দাবী আদায়ের জন্য আলমডাঙা, গাংনী, মিরপুর, দৌলতপুর সহ জেলার বিভিন্ন স্কুলে এবং গ্রাম-গঞ্জে সভা সমাবেশ করে সাধারন মানুষের ভেতর ৬ দফায় বাঙ্গালীর খবরদারি সম্পর্কে বোঝান।  তিনি এ দাবি আদায় করার জন্য সংগঠন তৈরী করে প্রয়োজনীয় কর্মী সৃষ্টি করেন। সাধারন মানুষের বিভিন্ন দাবী দাওয়া আদায় করে দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ৬৯ এর ছাত্র গণ আন্দোলনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় ব্যাপক ভুমিকা রাখে। গ্রামগঞ্জে সভা সমাবেশ করার কারনে সাধারন মানুষের নেতা তথা কৃষকদের জন্য আন্দোলন করায় উত্তর বঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে যায়।

ছাত্র নেতা মারফত কে স্কুল কলেজে গেলে তাকে দেখার জন্য, তার মুখের কথা শোনার জন্য ভিড় লেগে যেতো। ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নৌকায় প্রাথমিক জয়লাভ করার জন্য সমগ্র জেলায় কাজ করেন এবং একজন ত্যাগী যুব কর্মী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সেই সুবাদে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠে। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ ভুমিকা পালন করেন । ৭০ সালের নির্বাচনে ৬ দফা দাবী আদায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছাত্র জনতার জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বক্তব্য রাখতো।

মারফত আলী ১৯৬৭ সালে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য তথা নিউক্লিয়াসের সদস্য হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শোনার জন্য ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে ফিরে এসে জেলার বিভিন্ন জায়গায় জয় বাংলা বাহিনী গঠন করে বেড়ায় এবং জেলা জয় বাংলা বাহিনীর সহকারী কমান্ডার হয়ে ছাত্র যুবকদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়ার জন্য বিভিন্ন থানায় কাজ করেন।

গণমানুষের নেতা মারফত আলীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মাঠে পতাকা উত্তোলন ও স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠ করেন। ২৩ শে মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় দিবসকে বাংলাদেশ দিবস হিসেবে ঘোষনা দিয়ে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন যায়গায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে এবং জয় বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজ করার জন্য কুষ্টিয়া হাই স্কুল মাঠে সমবেত হন। প্রতি থানা থেকে জয় বাংলা বাহিনীর সদস্যগন দেশী বিদেশী অস্ত্র নিয়ে হাই স্কুল মাঠে সমবেত হয় এবং তার নেতৃত্বে কুচকাওয়াজ হয়। সবাই শপথ গ্রহন করে দেশ স্বাধীন করার জন্য। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালাম গ্রহন করেন গোলাম কিবরিয়া এম, পি।

এর পর তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহনের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে চলে যান। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেরাদন এলাকায় মিত্র বাহিনীর অধিনায়কের নেতৃত্বে সম্মুখ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ফিরে আসেন মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান জিয়াউল বারীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি সরাসরি পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

জয় বাংলা বাহিনীর কাজের সুবিধার জন্য তিনি সে সময় আমলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে একটি নতুন জীপ গাড়ী নেন এবং উক্ত গাড়িতে করে তিনি সহযোগি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সামসুল হাদী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমেনকে সাথে নিয়ে মেহেরপুরের বিখ্যাত ডাকাত আলীহীম ডাকাতের ভাই ইংরেজ ডাকাতের বাড়ীতে যায় বোমা বানানো শেখানোর জন্য এবং তিনিই শেষ পর্যন্ত বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

সম্মুখ যুদ্ধ করেন দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি, মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ কাঁঠালবাগান, নওদাপাড়া ব্রিজ, হালসা রেল ব্রিজ উল্লেখযোগ্য ছাড়াও তিনি অনেক যুদ্ধে সফলতা পান। তার সহযোগী হিসেবে উক্ত যুদ্ধগুলোতে শহীদ হন বীরমুক্তিযোদ্ধা মধু মন্ডল. বীরমুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা ছাদেক আলী,  বীরমুক্তিযোদ্ধা আকুল শেখ। এ সকল যুদ্ধে অসংখ্য পাকিস্তানি সৈন্য তার হাতে নিহত হন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, যে মেনোফেষ্টোর উপর শপথ রেখে এদেশকে স্বাধীন করা হয়েছিলো তার কোনটায় পুরন হচ্ছে না।

কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, ধোপা, জেলে, নাপিত, মাস্টার, ডাক্তার, প্রভৃতি পেশাজীবীদের প্রকৃত স্বার্থ ও অঙ্গীকার রক্ষা পাচ্ছে না। তৎকালিন মেজর জলিলের কঠিন নেতৃত্বে তিনিও ‘৭১ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার ‘ এই শ্লোগান নিয়ে তিনি সমাজ গঠনে মনোনিবেশ করেন।

তিনি আখের মূল্য বৃদ্ধির আন্দোলনে আখ চাষীদের নিয়ে কুষ্টিয়া সুগার মিল ঘেরাও করেন। পাট ও তামাক চাষীদের নিয়ে তিনি ন্যায্য মূল্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি সর্ব প্রথম এতদাঞ্চলের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কে চিন্তা করেন। স্বাধীনতার কিছু সময় পর এখানকার কিছু অসাধু-জোতদারব্যবসায়ী ভরতে পাট এবং কলাই পাচার করছিলো। তিনি সেই পাট ও কালায় পাচার রোধ করে ২৪ হাজার টাকায় তা বিক্রি করে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শিক্ষার পাদপীঠ আমলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শত বাধা ও প্রতিকুলতা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদকে আমলা ফুটবল মাঠে নিয়ে এসে আমলা কলেজকে সরকারীকরণ করান।

১৯৮৮ সালে তদানিন্তন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি কৃষি উৎপাদন , শিক্ষা, সাংস্কৃতি, খেলাধুলার প্রতি বেশী নজর দেন। তিনি ছিলেন বিদ্যুৎসাহী ও সাহিত্যানুরাগী। বস্তুতঃ নারী শিক্ষার প্রতি তার আশক্তি ছিলো অসাধারন। তারই অদম্য ইচ্ছায় জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের উন্নতি সাধিত হয় এবং মিরপুর উপজেলা বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারীকরন করান । সে সময় তিনি মিরপুর উপজেলাকে আদর্শ ও আধুনিক উপজেলা গঠনে একাগ্রতার সাথে আত্মনিয়োগ করেন। এ বীরমুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয় তাঁর জীবনদ্বশায় মিরপুর উপজেলা তথা কুষ্টিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার চরম উকর্ষ সাধিত হয়।

তিনি বাস্তহারা ভূমিহীনদের জন্য সদরপুর গুচ্ছগ্রাম, আমলা সাগরখালী গুচ্ছগ্রাম, খন্দকবাড়ীয়া গুচ্ছগ্রাম ও আসাননগর-ঝুটিয়াডাঙ্গা গুচ্ছ গ্রাম তৈরী করে তাদের আবাসন সুবিধার্থে সার্বিক সাহায্য করেন। পরবর্তীতে সরকার এ গুচ্ছ গ্রামগুলোকে আশ্রয় প্রকল্পে রুপ দান করেন।ব্যক্তি জীবনে মারফত আলী ছিলেন অসাধারন ব্যক্তি। তিনি সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলতেন। কোন জটিল বিষয়কে তিনি সহজ ভাবতেন এবং অসাধ্য কথাটি তার কাছে হার মানতো। সাধারন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি সর্বদা কর্ম চঞ্চল ছিলেন। তিনি কোনদিন নিজের চিন্তা করননি। তার খাওয়া দাওয়া পোশাক পরিচ্ছেদ ছিলো অতি সাধারন অতি নগন্য। তিনি আরামপ্রিয় ছিলেন না।

রাত-দিন ছুটে বেড়াতেন গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য। সাধারন মানুষের সাথে মিলনের জন্য তিনি আমলা বাজারে আমোদ আলীর চায়ের দোকানকে বেছে নিয়েছিলেন এবং সকাল ও সন্ধ্যায় এখানেই বসে তিনি রাজনীতি,ধর্ম,সামাজিক,সাংস্কৃতিক,অর্থনৈতিক প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা ও মত বিনিময় করতেন। তিনি অট্টলিকার মোহ পরিত্যাগ করে সদরপুর গ্রামে এক খড়ের ঘরে শুয়ে থাকতেন।

শহীদ মারফত আলী তাহার রাজনৈতিক মতাদর্শের উৎপাদক শ্রেনীকে বেশী গুরুত্ব দিতেন। তাহার চেতনা ছিলো যেহেতু উৎপাদক শ্রেনীয় জাতির উন্নতির নিরামক শক্তি এবং এই শ্রেনীই হবে আদর্শ রাস্ট্রের সর্বশ্রেষ্ঠ নাগরিক ও শাসনকর্তা। তিনি নিজেও একজন চাষী ছিলেন এবং চাষাবাদে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উৎপাদকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। চাষাবাদে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে সরকারি পৃষ্টপোসকতায় ইন্দোনেশিয়া,ফিলিপাইন,মালাক্কা দীপ ও মরোক্কো প্রভৃতি দেশে কৃষির উপর বিভিন্ন গবেষনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। মোট কথা তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ট কৃষিবিদ ও গবেষক।

সুর্যের প্রতিফলিত ছায়াগুলি যায় অগ্রে অথবা পিছনের সদুরে। শোষনমুক্ত সুন্দর সুসৃঙ্খল সমাজ গঠন প্রচেস্টায় সামান্য সমালোচনার মুখাপেক্ষি হলেও একথা স্মরনযোগ্য যে, তিনি ছিলেন এতদঞ্চলের তীক্ষ্ণ ধী-সম্পন্ন একজন চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তা ধারার অনন্য ব্যক্তিত্ব। ধৈর্য্যশীল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তিনি শ্রেণি সংগ্রামে মালিকদের সাথে কৃষক, শ্রমিক, কামার-কুমার ও মেহনতি মানুষের পক্ষে থেকে লড়াই সংগ্রাম করেছেন।

তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক শক্তি, দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রখর ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। বঙ্গবন্ধু’র সাথে ছিলো তার অকৃত্রিম ভালবাসার সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধু তাকে নাম ধরে স্নেহ করে ডাকতেন। বাস্তবধর্মী রাজনৈতিক , জনহিতৈষী, নির্ভিক ও আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে তিনি সবার মনের মণিকোঠায় আবদ্ধ ছিলেন।

কিংরদন্তিতুল্য এ ব্যক্তির জীবন চরিত্র ও কৃতিত্ব পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে বলা যায় তিনি দেশ, দেশের মানুষ, স্বাধীনতা ও স্বাধীকার আন্দোলনের একজন জাত বিপ্লবী। যার প্রেরণা ছিলো “ বুক বেঁধে তোরা দাঁড়া দেখি”। মারফত আলী ১৯৯১ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারী আততায়ীর গুলিতে প্রান হারান। থমকে দাড়ায় এক বিপ্লবীর সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লব। তার চেতনা, তার স্বপ্ন মানুষকে কান্নায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তার মরদেহ যখন আমলা হাই স্কুল মাঠে আনা হয় তখন লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিলো।

কারো মৃতুতে এত লোক, এমন কান্না কেউ কখনও দেখেনি। আমলা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ঢুকতে বাম হাতে এ মহান মুক্তিযোদ্ধার কবর আছে। যে কবরকে ১৯৯৮ সালে সেনাবহিনীর এক চৌকষদল শিখাচিরন্তনী রেখে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শণ করেন। বিজয়ের এই মাসে আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এই বীরকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করি।