মেহেরপুরে এআরবি কলেজে বহিরাগত যুবকদের হামলা, পরীক্ষা বন্ধ ।

75

মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে অবস্থিত এআরবি কলেজে বহিরাগত যুবকদের হামলায় চলতি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র/ছাত্রীদের প্রি-টেষ্ট পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় । গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশ টার দিকে আমঝুপি গ্রামের নান্নু, পলাশ ও মোমিনের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল ও আগলামনযোগে আসা বিশ পঁচিশ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক কলেজে প্রবেশ করে। তারা পরীক্ষার হলে ঢুকে ছাত্র/ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জোর পুর্বক হল থেকে বের করে দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় ।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানায়, আমঝুপি গ্রামের নান্নু, পলাশ ও মোমিনের নেতৃত্বে বিশ পঁচিশ জন বহিরাগত যুবক কলেজে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে ও ছেলেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেয় তাছাড়া মেয়েদের হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে জোর পূর্বক পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন- আমার কাছে খবর আসার পর আমি বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালে তার নির্দেশে পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখি ।

এব্যাপারে আগামী মঙ্গলবার গর্ভনিং বডির সদস্যদের নিয়ে অভিযুক্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে এ আর বি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র বিশাল একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে কয়েকবার কথা বলতে দ্যাখে তার ভাই দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রকি। রকি পরে বিশালকে ডেকে জিজ্ঞাসা করছিলো কি বলছিলি। তখন পাশে থাকা দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আরোজ আলী বলে দোস্ত সব তো আমাদের ভিতর কিছু মনে করিস না। এ কথা বলাতে রকি ঘুসি মারে আরোজকে।

এ সময় দুজনের মাঝে মারামারি বাঁধে। এ ঘটনা দেখে কলেজের পিয়ন মাহাবুল সেখানে উপস্থিত হয়। মাহাবুল দুজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে আরজ পড়ে যায়। তারপর আরোজকে একটি চড় মারে মাহাবুল। পরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের কাছে বিচার দেয় সকলে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরোজকে একটি চড় মেরে সব কিছু মিটিয়ে ফেলেন। পরদিন বৃহষ্পতিবার সকালে কলেজের পিয়ন আমঝুপি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মাহাবুল কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা টানানোর জন্য কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় কয়েকজন ছাত্র মাহাবুলের উপর হামলা চালায় ।

তাতে সে গুরুতর আহত হলে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে শিক্ষকরা। এ ঘটনায় বর্শিবাড়ীয়া গ্রামের ইউসুফের ছেলে আরোজ আলীসহ দরবেশপুর গ্রামের মিয়ারুল ইসলামের ছেলে বিশাল, রাজনগর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে পিয়াল সহ ৮-১০ জনকে আসামী করে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা করে। এই ঘটনারই জের ধরে গতকাল শনিবার পরিকল্পিতভাবে আমঝুপি গ্রামের বেশ কিছুর উচ্ছৃঙ্খল যুবক কলেজে প্রবেশ করে। তারা পরীক্ষার হলে ঢুকে ছাত্র/ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জোর পুর্বক হল থেকে বের করে দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় ।