ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান — অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম কুষ্টিয়ায় বিজিবির মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৩৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য আটক বোয়ালমারীতে সংবাদকর্মীদের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মতবিনিময়  ভেড়ামারায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় দফায় দফায় ডেকে হয়রানি-পুলিশের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ ফরিদপুর-১ আসনে ১৫ জনের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী বৈধ” দলীয়রা টিকলেন, বাদ পড়লেন অধিকাংশ স্বতন্ত্র ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন যাচাইয়ে ব্যতিক্রমী চিত্র” ১৫ প্রার্থীর কেউই প্রাথমিকভাবে বৈধ নন, বাতিল ৭-স্থগিত ৮ নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে ডাকাতির মালামালসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতার হোসেনপুরে খাদ্য বিভাগের ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি: সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া গুদামে ধান দিতে পারছেনা কৃষকেরা কুষ্টিয়া-১ আসনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দু’জন বাদ

সৈয়দপুরে রাতের আঁধারে খাদ্য সহায়তা নিয়ে ছোটেন তাঁরা

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১১ জন সদস্য। প্রত্যেকের হাতেই খাবারের প্যাকেট। কঠোর লকডাউনে খাদ্য সংকটে পড়া নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মানুষদের জন্য ওই প্যাকেটগুলো নিয়ে রাতের আঁধারে ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্য রয়েছে চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু ও কাঁচা মরিচ। তাঁদের এই খাদ্য সহায়তার কাজে নেই কোন আনুষ্ঠানিকতা।
এ উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রামণ হুর হুর করে বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ২৫ জন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেওয়া হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।

এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ব ও মধ্যবিত্ব পরিবারগুলো। বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্বরা। তারা না পারছেন কিছু চাইতে লক লজ্জার ভয়ে।আর এই লকডাউনের শুরু থেকে সংগঠনের আজিম, সাজু, সামিউল, রাজা, শাহবাজ, জয়, শাহজাদা, জীবন, ইমরান, সাকিব ও নওশাদ আনসারী সহ অন্যান্যরা পরিস্থিতির শিকার এসব পরিবারগুলোকে তাদের সামর্থনুযায়ী রাতে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে লোক লজ্জার ভয়ে চাইতে পারেন না এমন পরিবারের খোঁজ করে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে খাদ্যের থলে। গোলাহাট এলাকার আজিম (ছদ্মনাম) বলেন, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ছোট সংসার। ফেরি করি আমি। কিন্তু লকডাউনে সব বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। চাইতে পারতেছিলাম না কারও কাছে।

ভাবতেও পারিনি রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে কেউ খাদ্য সহায়তা যাবে। আল্লাহ তাদের সর্বদা ভাল রাখুক। সংগঠনের আজিম, সামিউল, রাজাসহ অন্যানরা জানান তাঁরা মূলত রাতে বের হন এবং লকডাউনের পরিস্থিতিতে যারা আয় রোজগারে বিপাকে পড়েছেন তাদের খাদ্য সহায়তা দেন। মূলত সৈয়দপুরের মধ্যে গোলাহাটে বেশি অভাবি মানুষ তাই এই এলাকাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ এর প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, আমাদের সামর্থনুযায়ী খাদ্য সহায়তা প্রকৃত অসহায় মানুষজনের হাতে পৌঁছায় সেটা মাথায় রেখে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঈদের আগে ও ঈদের পরে জারিকৃত লকডাউনে এ পর্যন্ত আমরা রাতে বের হয়ে পরিস্থিতির শিকার এরুপ প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি।

এই কার্যক্রম লকডাউন থাকাকালিন পর্যন্ত চলবে! সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রমিজ আলম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ সংগঠনটি এ সংকটকালীন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে সত্যিই তা প্রশংসনীয়। অন্যদের এমন কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান — অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম

সৈয়দপুরে রাতের আঁধারে খাদ্য সহায়তা নিয়ে ছোটেন তাঁরা

আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১১ জন সদস্য। প্রত্যেকের হাতেই খাবারের প্যাকেট। কঠোর লকডাউনে খাদ্য সংকটে পড়া নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মানুষদের জন্য ওই প্যাকেটগুলো নিয়ে রাতের আঁধারে ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

খাদ্য সামগ্রীর মধ্য রয়েছে চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু ও কাঁচা মরিচ। তাঁদের এই খাদ্য সহায়তার কাজে নেই কোন আনুষ্ঠানিকতা।
এ উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রামণ হুর হুর করে বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ২৫ জন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেওয়া হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।

এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ব ও মধ্যবিত্ব পরিবারগুলো। বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্বরা। তারা না পারছেন কিছু চাইতে লক লজ্জার ভয়ে।আর এই লকডাউনের শুরু থেকে সংগঠনের আজিম, সাজু, সামিউল, রাজা, শাহবাজ, জয়, শাহজাদা, জীবন, ইমরান, সাকিব ও নওশাদ আনসারী সহ অন্যান্যরা পরিস্থিতির শিকার এসব পরিবারগুলোকে তাদের সামর্থনুযায়ী রাতে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে লোক লজ্জার ভয়ে চাইতে পারেন না এমন পরিবারের খোঁজ করে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে খাদ্যের থলে। গোলাহাট এলাকার আজিম (ছদ্মনাম) বলেন, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ছোট সংসার। ফেরি করি আমি। কিন্তু লকডাউনে সব বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। চাইতে পারতেছিলাম না কারও কাছে।

ভাবতেও পারিনি রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে কেউ খাদ্য সহায়তা যাবে। আল্লাহ তাদের সর্বদা ভাল রাখুক। সংগঠনের আজিম, সামিউল, রাজাসহ অন্যানরা জানান তাঁরা মূলত রাতে বের হন এবং লকডাউনের পরিস্থিতিতে যারা আয় রোজগারে বিপাকে পড়েছেন তাদের খাদ্য সহায়তা দেন। মূলত সৈয়দপুরের মধ্যে গোলাহাটে বেশি অভাবি মানুষ তাই এই এলাকাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ এর প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, আমাদের সামর্থনুযায়ী খাদ্য সহায়তা প্রকৃত অসহায় মানুষজনের হাতে পৌঁছায় সেটা মাথায় রেখে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঈদের আগে ও ঈদের পরে জারিকৃত লকডাউনে এ পর্যন্ত আমরা রাতে বের হয়ে পরিস্থিতির শিকার এরুপ প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি।

এই কার্যক্রম লকডাউন থাকাকালিন পর্যন্ত চলবে! সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রমিজ আলম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ সংগঠনটি এ সংকটকালীন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে সত্যিই তা প্রশংসনীয়। অন্যদের এমন কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।