ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

গোদাগাড়ীতে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রাপ্ত দালিলিক তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ৮ আগস্ট কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কৌশলে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় অধ্যক্ষের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তিনি বারবার গড়িমশি করেন এবং বিশেষ করে দোকানঘর নির্মাণ সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল প্রভাষক হিসেবে যোগদান করা রোকনুজ্জামান সরকার ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় সিনিয়র ও যোগ্য শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তিনি এই পদে আসীন হন।দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজের দোকানঘর নির্মাণ ও ভাড়া সংক্রান্ত জামানতের অর্থে অনিয়ম করা হয়। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর চারটি দোকানঘর নির্মাণ ও ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তিতে প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৪ টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও, তৎকালীন সময়ের বর্তমান সভাপতিকে উপেক্ষা করে পূর্বের সভাপতির স্বাক্ষর ব্যবহার করে কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক, রাজশাহী কলেজের একজন প্রতিনিধি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি এবং একজন শিক্ষক সদস্য রয়েছেন। কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট গোদাগাড়ী থানায় দায়ের হওয়া নাশকতা ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি প্রায় ২১ দিন কারাভোগ করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তার নিয়মিত কলেজে অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান সরকার বলেন, এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে কলেজ থেকে সরাতে একটি পক্ষ চক্রান্ত করছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কলেজের কোনো টাকা আমি আত্মসাৎ করিনি। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, তা দোকানঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে। বিল- ভাউচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি পরে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, নিয়মানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও নির্ধারিত ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে যা কিছু হবে, তা আইন ও বিধি অনুযায়ীই হবে।

তবে কলেজের কিছু শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পক্ষ ওই বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের চেষ্টা চালাচ্ছে।