ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপূজার আগেই ভেড়ামারায় দাস সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাটের ব্যবস্থা করল উপজেলা প্রশাসন

দুর্গাপূজার আগেই ভেড়ামারায় দাস সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাটের ব্যবস্থা করল উপজেলা প্রশাসন

হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী দাস সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। দুর্গাপূজার আগেই তাদের মরদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানঘাটের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাতের উদ্যোগে প্রায় দুই মাসের প্রচেষ্টায় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় এক বিঘা খাসজমি শ্মশানঘাটের জন্য বরাদ্দ দিয়ে সম্প্রদায়টির সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউএনও মো. আমিরুল আরাফাত ও উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নির্ধারিত জমি দাস সম্প্রদায়ের সদস্যদের বুঝিয়ে দেন। এতে দীর্ঘ এক বছর ধরে শ্মশানঘাট না থাকায় ভোগান্তিতে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি মাধবপুর এলাকায় দাস সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানঘাটটি গত বছর পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে মরদেহ দাহ কিংবা সমাহিত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না তাদের।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকায় দাস সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবারের বসবাস। শ্মশানঘাটের জন্য এর আগে একাধিকবার আবেদন করেও শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন বাধার কারণে তারা জমি পাননি। পরে নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দুই মাস আগে তারা আবারও শ্মশানঘাটের জন্য আবেদন করেন।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন জমি নির্ধারণের কাজ শুরু করে। প্রায় দুই মাস ধরে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় এক বিঘা খাসজমি শ্মশানঘাটের জন্য নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে জমিটি দাস সম্প্রদায়ের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর দাস বলেন, “গত এক বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল শ্মশানঘাট। আমাদের কেউ মারা গেলে তাকে দাহ করা কিংবা সমাহিত করার মতো এক ছটাক জমিও ছিল না। তখন কোথায় যাব, কী করব—এ নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপূজার আগে উপজেলা প্রশাসন শ্মশানের ব্যবস্থা করায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভাগ্য ভালো, গত এক বছরে আমাদের সম্প্রদায়ের কেউ মারা যাননি।”
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, “দুই মাস আগে দাস সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট নেই, বিষয়টি জানার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকও সহযোগিতা করেছেন। সত্যিকার অর্থে, সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল থাকবে না—এটা হতে পারে না।”
শ্মশানঘাটের জন্য জমি নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভেড়ামারার দাস সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। দুর্গাপূজার আগে উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।