ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দৌলতপুরে পীর হত্যাকাণ্ড: পরিবারের মামলা না, পুলিশের প্রস্তুতি বাদী হওয়ার পীর হত্যা ও গুজবের আগুনে দৌলতপুর উত্তাল, শফি মণ্ডলের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার অনুমতি ছাড়াই ফুলবাড়ীতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়া রোগী বাড়ছে বেরোবি ক্যাম্পাসে নতুন ডাক বাক্স উদ্বোধন, ভবিষ্যতে পোস্ট অফিস স্থাপনের আশ্বাস তানোরে জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সপ্তাহ ও মেলার পুরুষ্কার বিতরণ  তানোরে বিএমডিএর সেচ প্রকল্প কৃষি উৎপাদনে বড় ভুমিকা রাখছে  গৌরনদীতে খালে ভাসমান নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে নানা আয়োজনে বরণ করা হচ্ছে ১৪৩৩ বাংলা মান্দায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন এমপি ডা.ইকরামুল বারী টিপু

দৌলতপুর আ.লীগের বর্ধিত সভায় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ; আ.লীগ নেতারা জানেননা আমন্ত্রণকারী কে

ফরিদ আহমেদঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ছিল গেল শনিবার (১ অক্টোবর), সেই সভাতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিএনপি নেতাদের প্রবেশে ছিল অনুমতি। এই অনুমতি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

সভাতে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনেই বক্তব্য দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বোয়ালীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোয়াজ উদ্দিন।

মঞ্চের সামনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বসার জায়গাতে বসে আছেন বিএনপি সমর্থিত ও পদধারী অনেক ইউপি সদস্য। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ইউপি নির্বাচনে আংশগ্রহন করে জিতে আসা চেয়ারম্যানদেরও দেখা যায় বর্ধিত সভাতে। এতে খোভ বেড়েছে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হওয়া প্রার্থিদের মধ্যে।

এসব বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ:কা:ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বোয়ালীয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোয়াজকে কারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তা জানি না। তাকে দেখে আমি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বলেছিলাম বর্ধিত সভা থেকে বের করে দিব কিনা তখন সবাই নিষেধ করেছিল। কারন এটা দৃষ্টিকটু দেখায়। আর যেহেতু জেলা পরিষদের ভোটের জন্য বর্ধিত সভা তাই বিএনপির জনপ্রতিনিধি বা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান ভোট দিতে চাইলে সভাতে আসতেই পারে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে যে কেউ আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারে। তবে দলীয় কোন পদ দেয়া যাবে না। তবে খোয়াজ আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি বলে জানান এই প্রবীণ নেতা। তিনি আরও বলেন, কেমন করে বিএনপি নেতারা সভাতে আমন্ত্রণ পেলো তা খতিয়ে দেখা হবে এবং আমাদের দলের কেউ আমন্ত্রণ করেছিল কিনা তা বের করা হবে।

চেয়ারম্যান খোয়াজ বলেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি। এখনো তিনি উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক। উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড.এজাজ আহম্মেদ মামুনের আমন্ত্রণে সভাতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পহেলা অক্টোবরের বর্ধিত সভাতে বিএনপি নেতা ও সমর্থক চেয়ারম্যান, মেম্বারদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে জেলা জুড়ে। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় দৌলতপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রীতির অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন নিজেদের বাঁচাতে নেতারা-জনপ্রতিনিধিরা বিএনপির সাথে আতাত করছেন তাই দলীয় বর্ধিত সভাতেও অন্য দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে পীর হত্যাকাণ্ড: পরিবারের মামলা না, পুলিশের প্রস্তুতি বাদী হওয়ার

দৌলতপুর আ.লীগের বর্ধিত সভায় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ; আ.লীগ নেতারা জানেননা আমন্ত্রণকারী কে

আপডেট টাইম : ০৪:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২

ফরিদ আহমেদঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ছিল গেল শনিবার (১ অক্টোবর), সেই সভাতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিএনপি নেতাদের প্রবেশে ছিল অনুমতি। এই অনুমতি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

সভাতে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনেই বক্তব্য দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বোয়ালীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোয়াজ উদ্দিন।

মঞ্চের সামনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বসার জায়গাতে বসে আছেন বিএনপি সমর্থিত ও পদধারী অনেক ইউপি সদস্য। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ইউপি নির্বাচনে আংশগ্রহন করে জিতে আসা চেয়ারম্যানদেরও দেখা যায় বর্ধিত সভাতে। এতে খোভ বেড়েছে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হওয়া প্রার্থিদের মধ্যে।

এসব বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ:কা:ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বোয়ালীয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোয়াজকে কারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তা জানি না। তাকে দেখে আমি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বলেছিলাম বর্ধিত সভা থেকে বের করে দিব কিনা তখন সবাই নিষেধ করেছিল। কারন এটা দৃষ্টিকটু দেখায়। আর যেহেতু জেলা পরিষদের ভোটের জন্য বর্ধিত সভা তাই বিএনপির জনপ্রতিনিধি বা বিদ্রোহী চেয়ারম্যান ভোট দিতে চাইলে সভাতে আসতেই পারে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে যে কেউ আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারে। তবে দলীয় কোন পদ দেয়া যাবে না। তবে খোয়াজ আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি বলে জানান এই প্রবীণ নেতা। তিনি আরও বলেন, কেমন করে বিএনপি নেতারা সভাতে আমন্ত্রণ পেলো তা খতিয়ে দেখা হবে এবং আমাদের দলের কেউ আমন্ত্রণ করেছিল কিনা তা বের করা হবে।

চেয়ারম্যান খোয়াজ বলেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি। এখনো তিনি উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক। উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড.এজাজ আহম্মেদ মামুনের আমন্ত্রণে সভাতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পহেলা অক্টোবরের বর্ধিত সভাতে বিএনপি নেতা ও সমর্থক চেয়ারম্যান, মেম্বারদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে জেলা জুড়ে। এনিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় দৌলতপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রীতির অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন নিজেদের বাঁচাতে নেতারা-জনপ্রতিনিধিরা বিএনপির সাথে আতাত করছেন তাই দলীয় বর্ধিত সভাতেও অন্য দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছেন।