রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক মিশাল মন্ডলসহ দুইজন অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ দিন কারাভোগের পর রোববার (২৯ মার্চ) রাজশাহী যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে তারা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তিপ্রাপ্ত অপর ব্যক্তি হলেন বিএনপি নেতা ইব্রাহিম।
জানা যায়, গত ৭ মার্চ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম এবং রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুরুজ আলীর মধ্যে মুঠোফোনে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি প্রেসক্লাব পর্যন্ত গড়ালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ সময় রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাতেই রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে গত ১০ মার্চ দুপুরে জামিনের উদ্দেশ্যে রাজশাহী আদালতে গেলে সেখান থেকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক উপচার পত্রিকার সিনিয়র ফটোসাংবাদিক মো. মিশাল মন্ডল এবং বিএনপি নেতা ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশ।
দীর্ঘ ১৮ দিন কারাভোগের পর গতকাল আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করলে রোববার বিকেলে তারা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির সময় জেলগেটে উপস্থিত সহকর্মী সাংবাদিকরা ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের ফিরে পেয়ে অনেক সাংবাদিক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ আনন্দে অশ্রুসিক্ত হন। মুক্তির পর সাংবাদিক মিশাল মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার একটি সাধারণ ছবিকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাতে পিস্তল ধরিয়ে বিকৃতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে কলুষিত করেছে। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা সহকর্মী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, সহকর্মী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিক নেতারা বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, এডিট করা ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে যারা এই ঘটনা উসকে দিয়েছে এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির চেষ্টা করেছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানিমূলক ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।
তবে এঘটনায় ভিন্ন কথা বলছে সাংবাদিক মিশালের পরিবার। পরিবার বলছে, মিশালকে ভিতরে রেখে মোটা অংকের টাকা চাওয়া হয়েছে। কে চেয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা এব্যাপারে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাবো, অপেক্ষা করুন।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 



















