ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

লালপুর–ঈশ্বরদী সড়ক: ডিভাইডারহীন মহাসড়কে বাড়ছে প্রাণহানি, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

লালপুর–ঈশ্বরদী সড়ক: ডিভাইডারহীন মহাসড়কে বাড়ছে প্রাণহানি, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

এ জেড সুজন, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ঠাকুর মোড় থেকে আরামবাড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার অংশে উদ্বেগজনক হারে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির মাঝখানে ডিভাইডার না থাকায় বিপরীতমুখী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটছে। দ্রুতগতির ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলার নবীনগর এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। ৪ এপ্রিল গৌরীপুরে সড়ক পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া ঈদের দিনও একই সড়কে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নিহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রতিটি যাত্রাই অনিশ্চয়তায় ভরা। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু ঘটছে, যার ফলে পরিবারগুলো চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর প্রধান দাবি, ঠাকুর মোড় থেকে আরামবাড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে দ্রুত ডিভাইডার নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি স্পিড ব্রেকার স্থাপন, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সাইনবোর্ড বসানো, ট্রাফিক পুলিশের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—আর কত প্রাণহানির পর মিলবে নিরাপদ সড়ক?