ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত ইয়াকুব আলী ভেড়ামারায় দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত, দুর্ভোগে পথচারীরা মাদক উদ্ধারের ভিডিও ভাইরাল: সাংবাদিক রাতুলের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন শীতার্ত মানুষের পাশে তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবার ভেড়ামারায় ৫ দিনব্যাপী স্কাউটস পিএল কোর্স শুরু, পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তা নওগাঁর পত্নীতলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়িঘরে হামলা -রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনে দৌলতপুরে ছাত্রদলের ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের  বদ্ধপরিকর — এসপি জসিম উদ্দিন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তিতে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান ভেড়ামারায় ইউ সি বি ব্যাংকের  উদ্যোগে  শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

অপরিকল্পিত ইটভাটায় কমছে ফসলি জমি

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী: উত্তরের জেলা নীলফামারীতে কৃষি জমি গ্রাস করে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। ভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াচ্ছে পরিবেশে। এছাড়া অবৈধভাবে জমির উর্বর মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করা হচ্ছে। এতে কমছে আবাদি জমি ও ফসল। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে খাদ্য ভান্ডার ও পরিবেশ-প্রকৃতিতে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ জেলায় দু’শতাধিক ইটভাটা রয়েছে, যার অধিকাংশই অপরিকল্পিত।

এসব ইটভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে মাটি ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতি উপেক্ষা ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করার ফলে শত শত বিঘা জমির চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে ভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে ফসলি জমি বিনষ্টের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জেলার সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমি বিনষ্টের চিত্র চোখে পড়ে। জলঢাকা উপজেলার শৈলমারি ইউনিয়নের ফজলু মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, এলাকার জমিগুলোতে সারা বছর বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়।

স্থানীয় এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী জমির মালিক কৃষকদের ফুঁসলিয়ে জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের তাপস চন্দ্র রায় নামের আরেক কৃষক বলেন, দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আমার পার্শবর্তী জমিতে ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে স্থানীয় মিল-কারখানায় অধিক মূল্যে পাচার করছে এক মাটি ব্যবসায়ী। এতে আমার ফসলী জমিও বিনষ্টের পথে। অবৈধভাবে মাটি কর্তনকারীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ইটভাটার কারনে ফসলি জমির ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষি জমির মাটি কাটা ও অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটার অনুমোদন বন্ধ হওয়া দরকার। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইটভাটার মালিকদের পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত ইয়াকুব আলী

অপরিকল্পিত ইটভাটায় কমছে ফসলি জমি

আপডেট টাইম : ০৬:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী: উত্তরের জেলা নীলফামারীতে কৃষি জমি গ্রাস করে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। ভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াচ্ছে পরিবেশে। এছাড়া অবৈধভাবে জমির উর্বর মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করা হচ্ছে। এতে কমছে আবাদি জমি ও ফসল। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে খাদ্য ভান্ডার ও পরিবেশ-প্রকৃতিতে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ জেলায় দু’শতাধিক ইটভাটা রয়েছে, যার অধিকাংশই অপরিকল্পিত।

এসব ইটভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে মাটি ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতি উপেক্ষা ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে মিল-কারখানায় পাচার করার ফলে শত শত বিঘা জমির চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে ভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে ফসলি জমি বিনষ্টের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জেলার সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমি বিনষ্টের চিত্র চোখে পড়ে। জলঢাকা উপজেলার শৈলমারি ইউনিয়নের ফজলু মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, এলাকার জমিগুলোতে সারা বছর বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়।

স্থানীয় এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী জমির মালিক কৃষকদের ফুঁসলিয়ে জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের তাপস চন্দ্র রায় নামের আরেক কৃষক বলেন, দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আমার পার্শবর্তী জমিতে ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে স্থানীয় মিল-কারখানায় অধিক মূল্যে পাচার করছে এক মাটি ব্যবসায়ী। এতে আমার ফসলী জমিও বিনষ্টের পথে। অবৈধভাবে মাটি কর্তনকারীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ইটভাটার কারনে ফসলি জমির ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষি জমির মাটি কাটা ও অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটার অনুমোদন বন্ধ হওয়া দরকার। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইটভাটার মালিকদের পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।