ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় পরিবারভিত্তিক ঋণের চেক বিতরণ ধামইরহাটে দারিদ্র্য ও বাল্য বিবাহের চাপে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীর আত্যহত্যা। আগামী মাসে আরো ৫০হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড – সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ২ দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বন্ধ তিন ফিলিং স্টেশন ভেড়ামারায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুরে টেকসই প্রকল্পের মূল্যায়ণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল রাজশাহীর মোহনপুর রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রেখে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন আ: রাজ্জাক

ময়মনসিংহহে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতন: গৃহবধূর আত্মহত্যা

প্রতীক ছবি।

ময়মনসিংহহে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতন : গৃহবধূর আত্মহত্যা।


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যৌতুকের জন‍্য স্বামীর নির্যাতনে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। আসমা খাতুন (২৯) নামে দুই সন্তানের জননী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছ। এ ঘটনার পর নিহতের দুই সন্তান নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

রবিবার রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের আব্দুস সিদ্দিকের ছেলে হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুরের সাথে পাশের বারবাড়িয়া ইউনিয়নের বীর বখুরা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল বাতেনের মেয়ে আসমা খাতুনের প্রায় ১০বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এই দম্পতির ৬ বছর ও ৩ বছর বয়সের দুইটি কন্যা শিশু রয়েছে।

হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর বিয়ের পর আসমাকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার নির্যাতন করলে আসমা বাবা মার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিয়েছেন। পরে সবুজ মিয়া শিবগঞ্জ বাজারের সোনালী ব্যাংকের কাছে জনৈক কালাম মৌলভীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন এবং শিবগঞ্জ বাজারে হোমিওপ্যাথী ও কবিরাজি ঔষধের দোকান দিয়ে কবিরাজী করতেন। তবে হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর ও আসমা খাতুন পরহেজগার ছিলেন।

গতকাল ০৪ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যার পর সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ করে আসমা খাতুন বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর ও শ্বশুর আব্দুস সিদ্দিক আসমার দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন খোঁজ পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

পরে গফরগাঁও থানার এসআই আহসান হাবিব সঙ্গীয় ফোর্সসহ এসে ঝুলন্ত লাশ নামান এবং নিহতের স্বজনদের খবর দেন। এ ঘটনায় আসমার মা নাসিমা খাতুন রাতেই গফরগাঁও থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এ সময় নিহতের ছোট ভাই রাকিব মিয়া বলেন, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য আমার বোনকে অত্যাচার-নির্যাতন করতো।

এ জন্য আমরা ৫০ হাজার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের জানামতে আর কোন সমস্যা ছিল না। বোন কেন আত্মহত্যা করেছে এ বিষয় জানি না। তবে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়াতে সন্দেহ হচ্ছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় পরিবারভিত্তিক ঋণের চেক বিতরণ

ময়মনসিংহহে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতন: গৃহবধূর আত্মহত্যা

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১

ময়মনসিংহহে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতন : গৃহবধূর আত্মহত্যা।


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যৌতুকের জন‍্য স্বামীর নির্যাতনে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। আসমা খাতুন (২৯) নামে দুই সন্তানের জননী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছ। এ ঘটনার পর নিহতের দুই সন্তান নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

রবিবার রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের আব্দুস সিদ্দিকের ছেলে হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুরের সাথে পাশের বারবাড়িয়া ইউনিয়নের বীর বখুরা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল বাতেনের মেয়ে আসমা খাতুনের প্রায় ১০বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এই দম্পতির ৬ বছর ও ৩ বছর বয়সের দুইটি কন্যা শিশু রয়েছে।

হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর বিয়ের পর আসমাকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার নির্যাতন করলে আসমা বাবা মার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিয়েছেন। পরে সবুজ মিয়া শিবগঞ্জ বাজারের সোনালী ব্যাংকের কাছে জনৈক কালাম মৌলভীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন এবং শিবগঞ্জ বাজারে হোমিওপ্যাথী ও কবিরাজি ঔষধের দোকান দিয়ে কবিরাজী করতেন। তবে হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর ও আসমা খাতুন পরহেজগার ছিলেন।

গতকাল ০৪ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যার পর সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ করে আসমা খাতুন বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর হাফেজ সবুজ মিয়া ওরফে সবুর ও শ্বশুর আব্দুস সিদ্দিক আসমার দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন খোঁজ পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

পরে গফরগাঁও থানার এসআই আহসান হাবিব সঙ্গীয় ফোর্সসহ এসে ঝুলন্ত লাশ নামান এবং নিহতের স্বজনদের খবর দেন। এ ঘটনায় আসমার মা নাসিমা খাতুন রাতেই গফরগাঁও থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এ সময় নিহতের ছোট ভাই রাকিব মিয়া বলেন, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য আমার বোনকে অত্যাচার-নির্যাতন করতো।

এ জন্য আমরা ৫০ হাজার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের জানামতে আর কোন সমস্যা ছিল না। বোন কেন আত্মহত্যা করেছে এ বিষয় জানি না। তবে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়াতে সন্দেহ হচ্ছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।