তারাপুরে পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানে নাশকতা: সীমানা প্রাচীরে দুর্বৃত্তদের আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার দাফনস্থল ঘিরে রাখা বাঁশের তৈরি সীমানা প্রাচীরে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় মসজিদের মুসল্লিরা কবরস্থান থেকে ধোঁয়া ও আগুনের আলো দেখে সন্দিহান হন। পরে মসজিদের মাইক থেকে খবর জানানো হলে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সেখানে কেরোসিন ও পেট্রোলের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়, যা ঘটনাটি নাশকতা বলেই ইঙ্গিত করে।
ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ একে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সুপরিকল্পিত অপতৎপরতা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তারাই এমন ঘৃণ্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় তিন একর জায়গার তারাপুর কবরস্থানে ২০২২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চার শতাংশ জায়গা আলাদা করে ঘিরে রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে স্থানীয় পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে।
কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোয়াজ্জিন শহিদুল ইসলাম জানান, কবরস্থানে কোনও বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই এবং আশপাশে আগুন লাগার মতো উৎসও নেই, তাই ঘটনাটি যে ইচ্ছাকৃত, তা স্পষ্ট।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দও ঘটনাটিকে ৭১-এর পরাজিত শক্তির নাশকতা বলে দাবি করেছেন। পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ইউএনও রিফাতুল হক ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 
















