রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে মোহনপুরে মাদ্রাসায় গোপন নিয়োগের অভিযোগ, স্থানীয়দের বাধা
রাজশাহী ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের দিনে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় গোপনে নিয়োগের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে করা হয়নি রেজুলেশন, নেই নিয়োগ কমিটি, এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন প্রতিষ্ঠানটির সুপারিন্টেন্ডেন্টও। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগের উদ্যোগ নেন প্রতিষ্ঠানের গুটি কয়েক ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর বাজার সংলগ্ন বসন্তকেদার দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায়। গোপন নিয়োগে বাধা প্রদানসহ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা দুইজন পরীক্ষার্থী অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে দুপুর ১২টায় পরীক্ষার সময় নির্ধারিত থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন, নিয়োগের জন্য আগে থেকেই অন্য একজনকে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাকে গোপনে দুপুর ২টায় ডাকা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ওই মাদ্রাসায় “ল্যাব সহকারী” পদে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে মোট ৮টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জনকে পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এখানেই শুরু হয় অস্বচ্ছতা।
অভিযোগ রয়েছে, যাকে ল্যাব সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে আগেই গোপনে জানিয়ে দুপুর ২টায় ডাকা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এক পরীক্ষার্থী গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ উসমান হাদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণার দিনে টাকার বিনিময়ে গোপন নিয়োগের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছেন মাদ্রাসার সভাপতি এশারুল হক, ক্রীড়া শিক্ষক হাসিম উদ্দিন মণ্ডল ও সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইসহাক আলী। নিয়োগ নিয়ে কোনো ঝামেলা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান ওই পরীক্ষার্থী।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি এশারুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ডিজি অফিস থেকে একজন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে, তার আসতে দেরি হচ্ছে। নিয়োগ কমিটি, রেজুলেশন কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অবগতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে ক্রীড়া শিক্ষক হাসিম উদ্দিন মণ্ডলের বক্তব্যের সঙ্গেও সভাপতির বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমের সামনে তিনিও বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন।
পরে মুঠোফোনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়োগের বিষয়টি তিনি জানতেন, তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান এ বিষয়ে অবগত নন এমন তথ্য তার জানা ছিল না। যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পরিবেশ অস্বচ্ছ ও বিশৃঙ্খল দেখে তিনি ফিরে যান।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইসহাক আলী প্রতিষ্ঠানে আসেন। রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারিখ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে পরীক্ষার্থীদের আগের রাতে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এলোমেলো ও অসংলগ্ন উত্তর দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবাইদা সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সদ্য উপজেলায় যোগদান করেছেন, ফলে বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 
















