মোহনপুর মহব্বতপুর দারুল উলুম মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ,নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ
রাজশাহী (মোহনপুর প্রতিনিধি): রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মহব্বতপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দুইটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়মের ছক করেছিলেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, দুইটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই বাছাই শেষে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয় এবং প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়।
তবে শনিবার (৩ জানুয়ারি) পরীক্ষার দিন সকালে জানা যায়, মাদ্রাসা সভাপতির স্ত্রীর জন্য আগেই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে অধিকাংশ প্রার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। মাত্র ৫ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন, ফলে প্রার্থী সংকটে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, মাদ্রাসার সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও আবেদন করিয়েছিলেন, কিন্তু তারাও পরীক্ষায় অংশ নেননি। কারণ, নিয়োগের বিষয়টি আগে থেকেই ঠিক ছিল বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে।
মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেট মকসেদ আলী জানান, “ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ৩০ জন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দিনে প্রার্থীরা উপস্থিত থাকলেও তারা মাদ্রাসার সভাপতির স্ত্রী ও শামীম নামে এক আবেদনকারীকে আগে থেকেই সিলেক্ট করা আছে এমন অজুহাত দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় সভাপতির কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। ভাইভা বোর্ডে আমি ও সভাপতি—দুজনেই থাকব না।”
এবিষয়ে মিজাননামে এক আবেদনকারীসহ অন্যান্য আবেদনকারী জানান, আমরা মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মকসেদ আলী ও সভাপতি সাইফুল ইসলাম আগে থেকেই দুই প্রার্থীর থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছিল। আমরা তা বুঝতে পারি এবং পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
পরীক্ষা ফেয়ার করতে আমি ইউএনও স্যারকে কল করে বিষয়টি জানাই। আমরা চাই এই মাদ্রাসায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা হোক।
এদিকে হাবিব নামে আরেক আবেদনকারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি হতে পারে আরও একটি কৌশল— যাতে “নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ দেখিয়ে অনিয়ম ঢেকে দেওয়া যায়।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তারিখ নির্ধারণ সাপেক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 
















