নওগাঁর পত্নীতলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়িঘরে হামলা -রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনে
রাজশাহী ব্যুরো: নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন হয়েছেন এক প্রতিবন্ধী নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগী ওই প্রতিবন্ধী নারীর নাম মোসা. জোসনা খাতুন (৪৫)। তিনি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার যুগিবাড়ি গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সামান্য একটি বাঁশঝাড়কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। এতে জোসনা খাতুন, তার স্বামী ও সন্তানসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন আহত প্রতিবন্ধী জোসনা খাতুনের ছেলে মো. জুয়েল হোসেন। তিনি জানান, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেলে প্রতিবেশী মো. শরিফুল ও তার ছেলে মাসুদ রানাসহ তাদের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা বাসার গেট ভেঙে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মা, বাবা ও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। এসময় পরিবারের নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেন তিনি। ঘটনার রাতেই পত্নীতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ৬ ডিসেম্বর মো. জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মো. শরিফুল, তার ছেলে মাসুদ রানাসহ মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন বলেও অভিযোগ করেন জুয়েল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা আছে। উভয় পক্ষই আহত হয়েছে। পুলিশি সেবা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। আহতদের ডাক্তারি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মামলাই গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেউ গ্রেফতার নেই। তদন্ত শেষে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 

















