নির্বাচনী নিরাপত্তায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিজিবির সর্বাত্মক প্রস্তুতি
দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার সীমান্তঘেঁষা দৌলতপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৭ ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে চলছে বহুমাত্রিক নজরদারি কার্যক্রম।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৌলতপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে তিন প্লাটুন মোতায়েন করেছে বিজিবি। ডাংমড়কা এলাকায় স্থাপন করা অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে সদস্যরা নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ভারতের সঙ্গে দৌলতপুরের প্রায় ৮১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকাকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। এই সীমান্তজুড়ে অবস্থিত ১৩টি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) তিন শতাধিক বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান সংঘটিত না হয়।
নিরাপত্তা জোরদারে শুধু স্থল নয়, আকাশপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে ড্রোন ব্যবহার করে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ, এপিসি (আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার) দিয়ে টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘কে-নাইন’ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, কেবল দৌলতপুরেই নয়— কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলার ১১টি উপজেলা এবং ৬টি সংসদীয় আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে এই দুই জেলায় মোট ১৪.৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ১০টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প ও ২২টি চেকপোস্ট স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর চলতি মাসে দৌলতপুর সীমান্তে পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, আটটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে—যা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবির সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ।
এবার দৌলতপুর (কুষ্টিয়া-১) আসনে মোট আটজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপির একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা রয়েছেন। ভোটকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৩০ জানুয়ারি থেকে চেকপোস্টগুলোতে ডগ স্কোয়াডের তল্লাশি ও এপিসি গাড়ির মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 


















