৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি
রাজশাহী ব্যুরো: ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেছে বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগের কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী জেলা শাখা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
কর্মবিরতির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রদক্ষিণ করে পূর্ণ আদালত চত্বর ঘুরে পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-স্কেল ঘোষণা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বাস্তবায়ন করছে না। একই কর্মস্থলে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও কর্মচারীদের মধ্যে চরম বেতন বৈষম্য বিদ্যমান, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক। বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও এখানকার কর্মচারীরা আজ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার।
বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে আগামী দিনে কর্মবিরতি আরও দীর্ঘ করা হবে এবং বাধ্য হয়ে ‘ঢাকা চল’সহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজশাহীর তুলনা সহকারি ও বাংলাদেশ বিচার বিভাগের কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ জাকির হোসেন, জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক-২ ও বেঞ্চ সহকারি মোঃ শামিউর রহমান, রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলমাস হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সাকিবুল হাসানসহ দুই সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন বলেন, আমাদের পরিষ্কার দাবি ওয়ান স্টু ফোর এবং ১২তম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে। একই জায়গায় চাকরি করে বেতন বৈষম্য আমরা মেনে নেব না।
কেন্দ্রীয় সদস্য ও তুলনা সহকারি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ন্যায্য দাবি আদায় না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। প্রয়োজনে সারাদেশের কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামবে।
বক্তারা শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 













