ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রতারক তমাল গ্রেপ্তার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বদনাম করা অপরাধ  মিথ্যা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান: মির্জা আব্বাস রাজশাহীতে দৈনিক উপচার পরিবারের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেট নগরীতে হঠাৎ করে বেড়েছে মশার উপদ্রব, সিসিকের নেই কোন ভূমিকা রাজশাহীর তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, নির্দিষ্ট পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অর্ধকোটি টাকার মাদক ও অবৈধ ওষুধ জব্দ ভেড়ামারায় সিএনজি–কাঁকড়া ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ১ ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বাজার মনিটরিং, জরিমানা আদায় সাপাহারে ভাই-বোনের মধ্যে জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে নিহত ১ গ্রেফতার ৫  যশোরে মোটরসাইকেল চোরচক্রের দুই সদস্য আটক, চোরাই কাজের সরঞ্জাম উদ্ধার

প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে বিদ্রোহ” বোয়ালমারীতে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কৃত: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর বার্তা

প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে বিদ্রোহ”

বোয়ালমারীতে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কৃত: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর বার্তা

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও গোপন অসহযোগিতার অভিযোগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কারাদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের সঙ্গে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যেন রাজনৈতিক যোগাযোগ না রাখেন। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে তারা অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের অনুসারী ও সমর্থকরাও দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তবে পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করায় তাদের কর্মকাণ্ড জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরে আসে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি আপসহীন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনের শেষ সময়ে যে কোনো ধরনের গোপন অসহযোগিতা বা বিদ্রোহী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।”
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই বহিষ্কার ফরিদপুর বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দল নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-ফরিদপুরে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কোনো ছাড় নেই।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই সময়ে এমন কঠোর ব্যবস্থা দলের শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে দলের দৃঢ় অবস্থান দেখানোর প্রচেষ্টা।
এছাড়া ফরিদপুরে বিএনপির এই তিন নেতার বহিষ্কার ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান স্পষ্টত লক্ষ্য করা গেছে।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রতারক তমাল গ্রেপ্তার

প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে বিদ্রোহ” বোয়ালমারীতে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কৃত: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর বার্তা

আপডেট টাইম : ০৯:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে বিদ্রোহ”

বোয়ালমারীতে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কৃত: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর বার্তা

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও গোপন অসহযোগিতার অভিযোগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কারাদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের সঙ্গে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যেন রাজনৈতিক যোগাযোগ না রাখেন। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করলেও, গোপনে তারা অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের অনুসারী ও সমর্থকরাও দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তবে পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করায় তাদের কর্মকাণ্ড জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরে আসে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি আপসহীন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনের শেষ সময়ে যে কোনো ধরনের গোপন অসহযোগিতা বা বিদ্রোহী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।”
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই বহিষ্কার ফরিদপুর বিএনপির ইতিহাসে অন্যতম কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দল নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-ফরিদপুরে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কোনো ছাড় নেই।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই সময়ে এমন কঠোর ব্যবস্থা দলের শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে দলের দৃঢ় অবস্থান দেখানোর প্রচেষ্টা।
এছাড়া ফরিদপুরে বিএনপির এই তিন নেতার বহিষ্কার ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান স্পষ্টত লক্ষ্য করা গেছে।