ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন কুষ্টিয়া-১ আসনে বিজয়ের পর শান্তির বার্তা- দৌলতপুরে সহনশীল রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ কুষ্টিয়া-১-এ ধানের শীষের ঝড়- ৮০ হাজার ভোটে রেজা আহমেদ বাচ্চুর জয় দৌলতপুরে ভোটগ্রহণ শুরু, এজেন্ট সংকট নিয়ে অভিযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজশাহীর ৬ আসনে ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভেড়ামারায় বিএনপি’র বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত বাগমারায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে ভেড়ামারায় হোমিও দোকানের আড়ালে ভারতীয় মদ, ৩৬০ বোতল উদ্ধার পঞ্চগড় ২ আসনে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৫, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক 

নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ৩২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যসহ ২০ প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন। ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। কিন্তু ২০ প্রার্থীর কেউই মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি। সেই হিসেবে, নওগাঁ-১ আসনে তিনজন, নওগাঁ-২ আসনে একজন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয়জন, নওগাঁ-৪ আসনে চারজন, নওগাঁ-৫ আসনে তিনজন ও নওগাঁ-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত হারাবেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় আকবর আলী (লাঙল), মো. আ. হক শাহ্ (হাতপাখা) এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছালেক চৌধুরী (স্বতন্ত্র) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-২ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামসুজ্জোহা খান ধান শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-৩ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে মো. ফজলে হুদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট। এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। সেই হিসেবে মাসুদ রানা (লাঙল), কালিপদ সরকার (মই), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন), নাসির বিন আছগর (হাতপাখা), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (কলস) ও সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।

নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন ছয়জন প্রার্থী। এ আসনে একরামুল বারী টিপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রাকিব ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫। এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। এ আসন থেকে আলতাফ হোসেন (লাঙল), সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা), ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) এবং আরফানা বেগম (কলস) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-৫ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে জাহিদুল ইসলাম ধলু ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। ফলে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), আব্দুর রহমান (হাতপাখা), আনোয়ার হোসেন (লাঙল) হারাচ্ছেন জামানত।

নওগাঁ-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন পাঁচজন প্রার্থী। শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। এ আসন থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল), রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত জামানত হারাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন

নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন

আপডেট টাইম : ০৭:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ৩২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যসহ ২০ প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন। ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। কিন্তু ২০ প্রার্থীর কেউই মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি। সেই হিসেবে, নওগাঁ-১ আসনে তিনজন, নওগাঁ-২ আসনে একজন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয়জন, নওগাঁ-৪ আসনে চারজন, নওগাঁ-৫ আসনে তিনজন ও নওগাঁ-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত হারাবেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় আকবর আলী (লাঙল), মো. আ. হক শাহ্ (হাতপাখা) এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছালেক চৌধুরী (স্বতন্ত্র) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-২ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামসুজ্জোহা খান ধান শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-৩ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে মো. ফজলে হুদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট। এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। সেই হিসেবে মাসুদ রানা (লাঙল), কালিপদ সরকার (মই), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন), নাসির বিন আছগর (হাতপাখা), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (কলস) ও সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।

নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন ছয়জন প্রার্থী। এ আসনে একরামুল বারী টিপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রাকিব ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫। এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। এ আসন থেকে আলতাফ হোসেন (লাঙল), সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা), ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) এবং আরফানা বেগম (কলস) জামানত হারাবেন।

নওগাঁ-৫ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেন। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে জাহিদুল ইসলাম ধলু ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। ফলে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), আব্দুর রহমান (হাতপাখা), আনোয়ার হোসেন (লাঙল) হারাচ্ছেন জামানত।

নওগাঁ-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী করেন পাঁচজন প্রার্থী। শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। এ আসন থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল), রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত জামানত হারাবেন।