মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : বরেন্দ্র অঞ্চলে আলু নিয়ে আলু চাষীদের লোকসান না কাটায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।
গত বছর সরকার আলুর বাজারমূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তাতে উৎপাদন খরচ ওঠেনি। এবার পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দর নেমেছে ৫ থেকে ৭ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ভোক্তা পর্যায়ে দাম স্থিতিশীল থাকলেও কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, এ বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা।
বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশকের জন্য গুনতে হয়েছে বাড়তি অর্থ। কিন্তু বাজারে আলুর দাম মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৭ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এমনকি আলু তোলার শ্রমিক খরচও উঠছে না। এর ওপর হিমাগারের ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম দুশ্চিন্তা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে অঞ্চলে এ ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩০ টন। গত মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ টন। সেই হিসেবে এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে।
জেলার বিভিন্ন চাষীদের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে ‘প্রতি বিঘায় আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ বাজারে দাম ৫-৭ টাকা। একজন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এক বিঘার আলু তুলতে ৮-১০ জন শ্রমিক লাগে। এই দামে বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচই উঠছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও অনেক কৃষক চাষ করেছেন। এখন ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, আর এ কারণেই দাম কমেছে।’
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 









