পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল রাজশাহীর মোহনপুর
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার সাঁকোয়া মোড়ে আকস্মিকভাবে আলাউদ্দিন (৬৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদগাহের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যায়।
ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সাঁকোয়া মোড় দখলে নিয়ে রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় মোহনপুর থানা পুলিশকে।
এসময় সাঁকোয়া মোড় এলাকায় অবস্থিত বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির তিন নেতার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এটিএম মাইনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে এমরান বাদী হয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৩, ৩২৬, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় ৭ জনকে আসামি করে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-৪। ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়। একটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পর্যায়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ দুপুরে উভয় দলের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়।
দুপুরে কেশরহাট বাজারে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে মুয়াজ্জিম আলাউদ্দিন হত্যার বিচার দাবি করে নেতারা বক্তব্য দেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী জেলা জামায়াতের সূরা কর্মপরিষদ সদস্য ও বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা এফ এম ইসমাইল আলম আল হাসানি, কেন্দ্রীয় সূরা পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আওয়াল, নায়েবে আমির আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে বিকেল ৩টায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কেশরহাট পৌর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি দাবি করেন, ওই রাতে বিএনপির চার নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জামায়াত-শিবিরের হামলায় প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক এবং অপর মামলার বাদী আনারুল। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 














