ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ধামইরহাটে দারিদ্র্য ও বাল্য বিবাহের চাপে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীর আত্যহত্যা। আগামী মাসে আরো ৫০হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড – সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ২ দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বন্ধ তিন ফিলিং স্টেশন ভেড়ামারায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুরে টেকসই প্রকল্পের মূল্যায়ণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল রাজশাহীর মোহনপুর রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রেখে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন আ: রাজ্জাক ভেড়ামারায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ২

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যার ৪০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল ৪টায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো নওগাঁ সদর উপজেলার জাহান আলী, সামিদুল, সুজ্জাত ও রেন্টু ইসলাম। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে জাহান আলী নামক এক ব্যক্তি সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরকে ফোনে জানায় যে, তার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ রয়েছে। পরদিন সকালে পুলিশ সেখান থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি শহরের বাসিন্দা মিতু বানু।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—আসামি সামিদুল ও জাহান ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে মিতু বানুকে শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। ওই গ্রামের মালা নামক এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান, রেন্টু, সুজ্জাত ও সামিদুলসহ কয়েকজন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে টাকা লেনদেন নিয়ে মিতুর সঙ্গে তাদের ঝগড়া শুরু হলে মিতু চিৎকার করেন।

এ সময় নিজেদের সম্মান বাঁচাতে এবং জানাজানি হওয়ার ভয়ে ঘাতক রেন্টু মিতুর মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং বাকিরা হাত-পা চেপে ধরে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর রেন্টুর পরামর্শেই মরদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের আইটি টিম কাজ শুরু করে। গত ৭ মার্চ মূল হোতা জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাত এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার চার্জশিট দ্রুত প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ধামইরহাটে দারিদ্র্য ও বাল্য বিবাহের চাপে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীর আত্যহত্যা।

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ২

আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যার ৪০ দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল ৪টায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো নওগাঁ সদর উপজেলার জাহান আলী, সামিদুল, সুজ্জাত ও রেন্টু ইসলাম। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে জাহান আলী নামক এক ব্যক্তি সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরকে ফোনে জানায় যে, তার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ রয়েছে। পরদিন সকালে পুলিশ সেখান থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি শহরের বাসিন্দা মিতু বানু।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—আসামি সামিদুল ও জাহান ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে মিতু বানুকে শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। ওই গ্রামের মালা নামক এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান, রেন্টু, সুজ্জাত ও সামিদুলসহ কয়েকজন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে টাকা লেনদেন নিয়ে মিতুর সঙ্গে তাদের ঝগড়া শুরু হলে মিতু চিৎকার করেন।

এ সময় নিজেদের সম্মান বাঁচাতে এবং জানাজানি হওয়ার ভয়ে ঘাতক রেন্টু মিতুর মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং বাকিরা হাত-পা চেপে ধরে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর রেন্টুর পরামর্শেই মরদেহটি গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের আইটি টিম কাজ শুরু করে। গত ৭ মার্চ মূল হোতা জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাত এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার চার্জশিট দ্রুত প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।