বেরোবিতে গাছ কাটাকে ঘিরে বিতর্ক, ইমামের নাম ব্যবহার করে বিবৃতির অভিযোগ
পারভেজ হাসান ,রংপুর জেলা প্রতিনিধি, বেরোবি; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুরের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের খতিবের নাম ব্যবহার করে বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি গাছ কাটার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির নামে একটি বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মসজিদের সামনে গাছ কাটার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। তবে মসজিদের খতিব ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ দাবি করেন, ওই বিবৃতি তিনি দেননি।
বিবৃতি প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বেরোবি কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, “বিবৃতিটি আমি দিইনি। আমার নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এটি দিয়েছে আমি জানি না। যদি আমি বিবৃতি দিতাম, তাহলে সেখানে আমার স্বাক্ষর থাকত। কিন্তু ওই বিবৃতিতে কোনো স্বাক্ষর নেই, শুধু আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।”
গাছ কাটার ঘটনায় টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে প্রায় ১৮০টি গাছ কাটা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে গাছ কাটার ক্ষেত্রে সাধারণত বন বিভাগকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বন বিভাগকে না জানিয়েই গাছ কাটার টেন্ডার দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী ১৮০টি গাছের প্রতিটির গড় মূল্য যদি ৮০০ টাকা ধরা হয়, তবে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ সেই টেন্ডার মাত্র ৫৫ হাজার টাকায় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী মোখলেছ নামের একজন ব্যক্তি অন্যের নামে টেন্ডার ড্রপ করে কাজটি নিয়েছেন। একই ব্যক্তির হাতের লেখায় তিনটি টেন্ডার কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কর্মরত কেউ টেন্ডার নিতে পারেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে গাছ কাটার ঘটনাকে অনেকেই পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ক্যাম্পাসে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েজ এবং সচেতন শিক্ষার্থীরা। বিকেল আড়াইটায় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থী সবুর খান বলেন, “যেখানে প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কথা বলেন, সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি চাই। ” আরেক শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন বলেন, “শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল বিবৃতিটি ইমাম সাহেব দেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী তিনি এ বিষয়ে অবগতও নন। একজন সম্মানিত ইমামের নাম ব্যবহার করে এমন কাজ করা খুবই ন্যাক্কারজনক।”
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষের জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে প্রায় ৪০০ প্রজাতির প্রায় ৩৬ হাজার গাছ রয়েছে। সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 





















