মো.বেল্লাল হোসেন,দশমিনা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ; পটুয়াখালী দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক দগ্ধ বৃদ্ধা নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। দগ্ধ নারী ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চরআইচা থানার বাসিন্দা মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী মোসাঃ আমেনা বেগম (৫৫)। পরিচয় নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ। দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ রবিবার রাত আট ঘটিকার সময় উপজেলার হাজির হাট এলাকার কিছু লোক নাম পরিচয়হীন এক নরীকে দগ্ধ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করেন।
পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিয়মিত চিকিৎসা চলমান রাখে। ঐ দগ্ধ নারীর অবস্থা দিন দিন অবনতি হওয়ায় বুধবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঐ নারীকে প্রাথমিক জিঞ্জসাবাদে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা চরআইচা থানায় যোগাযোগ করলে পরিচয় পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানালে তিনি চিকিৎসার জন্য যা করনীয় তা করার নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ রাতেই ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান, গত রবিবার রাতে আমেনা নামের এক নারীকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় হাপাতালের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।
আমেনা বেগমের ছেলে মোঃ রাসেল জানান, আমার মা মানসিক ভরসম্যহীন। মাঝে মাঝে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যায়। আবার অনেক খোঁজাখুজির পর ফেরৎ পাই। কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে না বলে চলে যায়। তার শরীর দগ্ধ হলো কি ভাবে জানিনা। আমাকে আইচা থানার থেকে জানানো হয়। পরে দশমিনা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি সাহেবের সাথে কথা বলে ছবি দেখে নিশ্চিত হই। তারা জানান আমার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হচ্ছে আমাকে ঢাকা যেতে বলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমেনা নামের এক নরীকে দগ্ধ অবস্থায় হাজিরহাট লঞ্চ ঘাট এলাকা থেকে কিছু লোক হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসায় উন্নতি না হলে আমি বুধবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। তারা এসে বিষয়টি দেখে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানান। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বলেন। হাসপাতালের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে বুধবার দিবাগত রাতেই ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পঠানো হয়।
থানা ভাপরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পত্রিকাকে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি শুনে হাসপাতালে ছুটে আসি । ঐ নারীর সাথে প্রাথমিক কথা বলে চরফ্যাশন থানায় খবর দেই পরে পরিচয় সনাক্ত হয়। চর আইচার রাসেল নামের একজন আমেনা বেগমকে তার বোন বলে দাবি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলাপ্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে দ্রুত ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৯শতাংশ ভাগ দগ্ধ । কি ভাবে দগ্ধ হলো আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাই। তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। আমি হাসপাতালে এসে আমেনা বেগমকে দেখে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করি তার নির্দেশে বুধবার দিবাগত রাতেই সরকারি এ্যাস্বুলেন্সে ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিঃদ্রঃ নিউজটি একাধিক বার প্রেরন করায় আপনারা বিরক্তবোধ করেছেন। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনারা ভুল হলে বলবেন এটাই বাস্তবতা। নিউজটি অনলাইনে পাবলিস্ট করার জন্য অনুরোধ করলাম। কোন পত্রিকায় নিউজটি হয়নি।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 


















