ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
এক উঠানে ৯ লাশে শোকের মাতম, স্বজনদের বুকফাটা কান্না নওগাঁয় ইফতার মাহফিল থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা যশোরে বেনাপোল স্থলবন্দরে ঘোষণা বহির্ভূত শাড়ি-থ্রিপিস ও প্রসাধনী জব্দ ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে নেছারাবাদে জেলেদের চাল বিতরণে চাঁদার অভিযোগ, জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায় পিরোজপুর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে চাল বিতরণ। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলো অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, বালু ভর্তি বলহেড ও ড্রেজার জব্দ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দগ্ধ এক বৃদ্ধানারীকে ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে প্রেরন।

ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি-সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা

হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
নবায়নহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সঠিক তদারকি, দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

ভেড়ামারায় সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ক্লিনিক মালিকরা ওপরমহলকে খুশি রেখে ডাক্তার-লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই তাদের রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এরমধ্যে লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃশ্যমান তেমন কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চিকিৎসা সেবার নামে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক বসিয়ে সেবার নামে মানুষ ঠকানোর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং অদক্ষ নার্স, ওটি বয়, টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেই ডিউটি ডাক্তার, স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নীরব থাকায় ক্লিনিক মালিকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জানা যায়, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন/আয়কর প্রত্যয়নপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরিবেশ ছাড়পত্র, নারকোটিক পারমিট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু কাগজপত্র ও অবকাঠামোগত বিষয় থাকতে হয়। এছাড়াও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন টেকনোলজিস্ট ও দুজন টেকনিশিয়ান থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এনেস্থেসিয়া ও ওটিতে কোনো অনিবন্ধিত ডাক্তার বা কাউকে রাখা যাবে না। এমনটি করা হলে ওইসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় শতকরা ৭০ ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। নামমাত্র টেকনিশিয়ান দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। কিছু কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এক্সরে, ইসিজি, রক্ত সংগ্রহ এবং টেকনিশিয়ান দিয়ে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও হরমোনের কাজ করা হচ্ছে। যাদের কোনো নেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভেড়ামারায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে ১টি নবায়ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল খন্দকারকে একাধিক বার ফোন দলে উনি ফোন রিসিভ করে নাই।

সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এত বেশি নিয়ম-কানুন সেটা মানা অসম্ভব। গত দুই বছর এসব কারণে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটা শুধু ভেড়ামারাতে না সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগত আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে এখনো আমার কাছে আপডেট লিস্ট আসে নাই। আর ম্যানেজ করে চলার বিষটি সত্য নয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এক উঠানে ৯ লাশে শোকের মাতম, স্বজনদের বুকফাটা কান্না

ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

আপডেট টাইম : ০৯:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি-সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা

হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
নবায়নহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সঠিক তদারকি, দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

ভেড়ামারায় সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ক্লিনিক মালিকরা ওপরমহলকে খুশি রেখে ডাক্তার-লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই তাদের রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এরমধ্যে লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃশ্যমান তেমন কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চিকিৎসা সেবার নামে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক বসিয়ে সেবার নামে মানুষ ঠকানোর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং অদক্ষ নার্স, ওটি বয়, টেকনিশিয়ান দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেই ডিউটি ডাক্তার, স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নীরব থাকায় ক্লিনিক মালিকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জানা যায়, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন/আয়কর প্রত্যয়নপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরিবেশ ছাড়পত্র, নারকোটিক পারমিট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু কাগজপত্র ও অবকাঠামোগত বিষয় থাকতে হয়। এছাড়াও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন টেকনোলজিস্ট ও দুজন টেকনিশিয়ান থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে এনেস্থেসিয়া ও ওটিতে কোনো অনিবন্ধিত ডাক্তার বা কাউকে রাখা যাবে না। এমনটি করা হলে ওইসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় শতকরা ৭০ ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। নামমাত্র টেকনিশিয়ান দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। কিছু কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এক্সরে, ইসিজি, রক্ত সংগ্রহ এবং টেকনিশিয়ান দিয়ে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও হরমোনের কাজ করা হচ্ছে। যাদের কোনো নেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভেড়ামারায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে ১টি নবায়ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল খন্দকারকে একাধিক বার ফোন দলে উনি ফোন রিসিভ করে নাই।

সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এত বেশি নিয়ম-কানুন সেটা মানা অসম্ভব। গত দুই বছর এসব কারণে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটা শুধু ভেড়ামারাতে না সারা বাংলাদেশে একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অবগত আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে এখনো আমার কাছে আপডেট লিস্ট আসে নাই। আর ম্যানেজ করে চলার বিষটি সত্য নয়।