ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
এক উঠানে ৯ লাশে শোকের মাতম, স্বজনদের বুকফাটা কান্না নওগাঁয় ইফতার মাহফিল থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা যশোরে বেনাপোল স্থলবন্দরে ঘোষণা বহির্ভূত শাড়ি-থ্রিপিস ও প্রসাধনী জব্দ ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে নেছারাবাদে জেলেদের চাল বিতরণে চাঁদার অভিযোগ, জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায় পিরোজপুর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে চাল বিতরণ। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলো অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, বালু ভর্তি বলহেড ও ড্রেজার জব্দ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দগ্ধ এক বৃদ্ধানারীকে ঢাকা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে প্রেরন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সকল গণকবর পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। কিছু গণকবর সুরক্ষিত হলেও এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে অধিকাংশ গণকবর। গণকবরগুলো বিলীন হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মুক্তি সংগ্রামের মহান নিদর্শনগুলো। এমনই একটি বিলুপ্ত প্রায় গণকবর হলো নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর।

পত্নীতলা-পোরশা সীমান্তের মাটিন্দর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এই গণকবরের অবস্থান। সরেজমিনে মাটিন্দর গণকবরে গিয়ে দেখা গেছে, কনক্রীট দিয়ে ঘিরে রাখা গণকবরের দেওয়াল ভেঙ্গে গেছে। জঙ্গলে ভরে গেছে গণকবরের চারপাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী মানুষকে মেরে গণকবরের ফেলে দিয়েছিলো। এখান থেকে নাকি অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

তবে কি পরিমাণ মানুষকে এই গণকবরে ফেলা হয়েছে তার হিসাব তারা জানেন না। তারা আরো জানান, গণকবরের গায়ে খোদাই করে ৮/১০ জন শহীদের নাম লিখা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে গণকবরের বাউন্ডারি ভেঙ্গে পড়ায় শহীদদের নামফলকটি মাটির নীচে চাপা পড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করার সময় এই গণকবরটি ভেঙ্গে যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই গণকবরে কোন কর্মসূচী পালিত হয়না বলেও এলাকাবাসী জানান। এ বিষয়ে মাটিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুলতান মাহমুদ জানান, মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরটি পত্নীতলা উপজেলার একেবারে শেষ সীমান্তে অবস্থিত।

এর পরই পোরশা উপজেলা শুরু। পোরশা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে গণকবরটির দেওয়ালে রং করা হতো। বর্তমানে গণকবরটির অবস্থা খুব খারাপ। এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ট্রাডিশনালি মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরে সরকারিভাবে কর্মসূচী পালিত হয়না। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের সভায় এই গণকবরটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আগামীতে দৃষ্টিনন্দন কিছু করা যায়। পত্নীতলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস হতে ৮টি বধ্যভূমির তালিকা করা হয়েছে। এগুলো হলো-দিবর, মধইল, আমন্ত, গগণপুর, দূর্গাপুর, হালিমনগর, সৈয়দপুর ও নজিপুর বধ্যভূমি। এর মধ্যে নজিপুর বধ্যভূমি ইতিমধ্যে আত্রাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরাপর অধিকাংশ বধ্যভুমিই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এক উঠানে ৯ লাশে শোকের মাতম, স্বজনদের বুকফাটা কান্না

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর বিলুপ্তের পথে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সকল গণকবর পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। কিছু গণকবর সুরক্ষিত হলেও এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে অধিকাংশ গণকবর। গণকবরগুলো বিলীন হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মুক্তি সংগ্রামের মহান নিদর্শনগুলো। এমনই একটি বিলুপ্ত প্রায় গণকবর হলো নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ব্রীজ গণকবর।

পত্নীতলা-পোরশা সীমান্তের মাটিন্দর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশেই এই গণকবরের অবস্থান। সরেজমিনে মাটিন্দর গণকবরে গিয়ে দেখা গেছে, কনক্রীট দিয়ে ঘিরে রাখা গণকবরের দেওয়াল ভেঙ্গে গেছে। জঙ্গলে ভরে গেছে গণকবরের চারপাশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ১৯৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী মানুষকে মেরে গণকবরের ফেলে দিয়েছিলো। এখান থেকে নাকি অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

তবে কি পরিমাণ মানুষকে এই গণকবরে ফেলা হয়েছে তার হিসাব তারা জানেন না। তারা আরো জানান, গণকবরের গায়ে খোদাই করে ৮/১০ জন শহীদের নাম লিখা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে গণকবরের বাউন্ডারি ভেঙ্গে পড়ায় শহীদদের নামফলকটি মাটির নীচে চাপা পড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করার সময় এই গণকবরটি ভেঙ্গে যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই গণকবরে কোন কর্মসূচী পালিত হয়না বলেও এলাকাবাসী জানান। এ বিষয়ে মাটিন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুলতান মাহমুদ জানান, মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরটি পত্নীতলা উপজেলার একেবারে শেষ সীমান্তে অবস্থিত।

এর পরই পোরশা উপজেলা শুরু। পোরশা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে গণকবরটির দেওয়ালে রং করা হতো। বর্তমানে গণকবরটির অবস্থা খুব খারাপ। এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ট্রাডিশনালি মাটিন্দর ব্রীজ গণকবরে সরকারিভাবে কর্মসূচী পালিত হয়না। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের সভায় এই গণকবরটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে আগামীতে দৃষ্টিনন্দন কিছু করা যায়। পত্নীতলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস হতে ৮টি বধ্যভূমির তালিকা করা হয়েছে। এগুলো হলো-দিবর, মধইল, আমন্ত, গগণপুর, দূর্গাপুর, হালিমনগর, সৈয়দপুর ও নজিপুর বধ্যভূমি। এর মধ্যে নজিপুর বধ্যভূমি ইতিমধ্যে আত্রাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরাপর অধিকাংশ বধ্যভুমিই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।