সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলো
রাজশাহী ব্যুরো: সম্প্রতি রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতির উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক কর্মসূচি গ্রহন করেছে তারা। এর বিপরীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ ও ১২ মার্চ সংগঠনগুলো অফিসিয়াল প্যাডে এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তারা। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতিসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ মার্চ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সামান্য বাকবিতণ্ডাকে ইস্যু করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। পরবর্তীতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগ আনা হয়। এমন ঘটনার জেরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কয়েকজন ব্যক্তি সংস্থাটির রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক মো. নুরে ইসলাম মিলন, সাংবাদিক সংস্থার দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক মো. সুরুজ আলী এবং সাংবাদিক সংস্থার প্রচার সম্পাদক মো. মিশাল মন্ডলসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনগুলোর দাবি, হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা একজনের ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে হাতে অস্ত্র সংযুক্ত করে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা একজন ব্যক্তির সম্মানহানি করার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজ ও একটি দায়িত্বশীল সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাবেন বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে।
এদিকে সংগঠনের বরাতে জানা গেছে ঘটনাটি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নজরে আসার পর ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
তবে এ ঘটনায় দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান না হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঐ ঘটনাটি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন আইন শৃংখলা বাহিনী। তাদের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে পক্ষে বিপক্ষে সুপারিশ এসেছে। আমরা কারো কথায় কান দিচ্ছি না। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এব্যাপারে আরএমপি মিডিয়া মুখ্যপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সিরাজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আবার কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানীও করা হবে না। আমরা আপাতত এজাহার নামীয়দের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 





















