ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার মৌলীবাজার মডেলনথানার ওসি সাইফুলের উক্তি ১৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হলে ও থানার অফিসার ইনচার্জ ভাগ্যে জোটেছে২৫ সালে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের দম্পতি গ্রেফতার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর রাজশাহীর বিভিন্ন দেওয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস বিরোধী পোষ্টার জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ কুষ্টিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফডারশনর বিশাল গণমিছিল ও সমাবশ অনুষ্ঠিত নাগরপুরে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দৌলতপুরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ইউনিট পরিদর্শন নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

লালচে ডাব বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী রাণীনগরের বেগুনচাষী আসলাম

মোহাম্মদ আককাস আলী : লালচে ডাব বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী নওগাঁর রাণীনগরের বেগুনচাষী আসলাম প্রামানিক।
 এই জাতের বেগুন চাষে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ভাগ্য ফিরেছে চাষী আসলাম এর। চলতি মৌসুমে বেগুন চাষ থেকে প্রায় ২লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। পরীক্ষা মূলক চাষে ফলাফল খুব ভালো হওয়ায় আগামীতে বেগুনের এই জাত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। এই বেগুনের আকার অনেকটা ডাবের মতো দেখতে হওয়ায় প্রতিনিয়তই আসলামের ডাব বেগুনের খেত  ভিড় করছেন লোকজন। আসলে দেশীয় উচ্চ ফলনশীল জাতের এ বেগুন দেখতে ডাবের মতো হওয়াই এই জাতের নাম দেয়া হয়েছে ডাব বেগুন। যশোর এলাকার কৃষকের কাছ থেকে এই জাতের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম। বেগুন চাষে সকল কৃষকদেরকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, এবারই প্রথম এ উপজেলায় এই জাতের বেগুন চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বেগুনের এই নতুন জাত কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে উৎসাহী কৃষকদের মাধ্যমে উপজেলার ১৫ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই জাতের ডাব বেগুন চাষ করা হয়েছে। প্রথম চাষেই বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেগুনের খেতে এখন গাছে গাছে ঝুলছে বড় বড় জাতের ডাব বেগুন। এ জাতের বেগুন গাছে পোকা-মাকড় বা রোগবালাই কম হয়। একটি বেগুন গাছ একটানা ৪মাস ফল দেয়। ফলের রং লালছে বেগুনি। খুবই নরম। একেকটি বেগুনের ওজন হয় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম।
বেগুনচাষী আসলাম প্রামাণিক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগীতায় এবারই প্রথম সোয়া ২ বিঘা জমিতে এই নতুন জাতের ডাব বেগুন চাষ করেছেন। যেখানে অন্যজাতের বেগুন চাষ করলে কীটনাশক ও সার দিতে হিমশিম খেতে হয় অথচ এই ডাব বেগুনের গাছে তেমন একটা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। যার কারণে খরচ অনেক কম হয়েছে। কিন্তু ফলনও হয়েছে যা আশা করা হয়েছিলো তার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ফলন ও দাম ভালো পাওয়াই তিনি অনেক খুশি। পুরো জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। আর খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হবে প্রায় ২লাখ টাকা। তার মাঠের ফলন দেখে উচ্ছাসিত হয়ে একই গ্রামের অন্য কৃষকরাও খুশি। উপজেলার অন্যান্য এলাকা থেকে তার ডাব বেগুনের ফসল দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। আগামী বছর তারাও এই জাতের বেগুন চাষ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এই বেগুনের এই জাত হাইব্রিড নয়। দেশীয় উচ্চ ফলনশীল ও উচ্চ মূল্যের হওয়াই ভালো বাজার মূল্যে পেয়ে অধিক লাভবান হয়েছে কৃষকরা। যেহেতু এই জাতের বেগুন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন তাই আগামীতে উপজেলার অন্য উৎসাহি কৃষকদের মঝে আমরা এই জাত ছড়িয়ে দিতে চাই। এতে করে পুরাতন ধারার বেগুন চাষ থেকে কৃষকরা বেরিয়ে এসে এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষে লাভবান হতে পারেন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক একই জমিতে একই ফসলের অধিক ফলন পাওয়ার জাতের ফসল চাষে সব সময় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার মৌলীবাজার মডেলনথানার ওসি সাইফুলের উক্তি ১৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হলে ও থানার অফিসার ইনচার্জ ভাগ্যে জোটেছে২৫ সালে

লালচে ডাব বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী রাণীনগরের বেগুনচাষী আসলাম

আপডেট টাইম : ০৯:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩
মোহাম্মদ আককাস আলী : লালচে ডাব বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী নওগাঁর রাণীনগরের বেগুনচাষী আসলাম প্রামানিক।
 এই জাতের বেগুন চাষে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ভাগ্য ফিরেছে চাষী আসলাম এর। চলতি মৌসুমে বেগুন চাষ থেকে প্রায় ২লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। পরীক্ষা মূলক চাষে ফলাফল খুব ভালো হওয়ায় আগামীতে বেগুনের এই জাত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। এই বেগুনের আকার অনেকটা ডাবের মতো দেখতে হওয়ায় প্রতিনিয়তই আসলামের ডাব বেগুনের খেত  ভিড় করছেন লোকজন। আসলে দেশীয় উচ্চ ফলনশীল জাতের এ বেগুন দেখতে ডাবের মতো হওয়াই এই জাতের নাম দেয়া হয়েছে ডাব বেগুন। যশোর এলাকার কৃষকের কাছ থেকে এই জাতের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম। বেগুন চাষে সকল কৃষকদেরকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, এবারই প্রথম এ উপজেলায় এই জাতের বেগুন চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বেগুনের এই নতুন জাত কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করে উৎসাহী কৃষকদের মাধ্যমে উপজেলার ১৫ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই জাতের ডাব বেগুন চাষ করা হয়েছে। প্রথম চাষেই বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেগুনের খেতে এখন গাছে গাছে ঝুলছে বড় বড় জাতের ডাব বেগুন। এ জাতের বেগুন গাছে পোকা-মাকড় বা রোগবালাই কম হয়। একটি বেগুন গাছ একটানা ৪মাস ফল দেয়। ফলের রং লালছে বেগুনি। খুবই নরম। একেকটি বেগুনের ওজন হয় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম।
বেগুনচাষী আসলাম প্রামাণিক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগীতায় এবারই প্রথম সোয়া ২ বিঘা জমিতে এই নতুন জাতের ডাব বেগুন চাষ করেছেন। যেখানে অন্যজাতের বেগুন চাষ করলে কীটনাশক ও সার দিতে হিমশিম খেতে হয় অথচ এই ডাব বেগুনের গাছে তেমন একটা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। যার কারণে খরচ অনেক কম হয়েছে। কিন্তু ফলনও হয়েছে যা আশা করা হয়েছিলো তার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ফলন ও দাম ভালো পাওয়াই তিনি অনেক খুশি। পুরো জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। আর খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হবে প্রায় ২লাখ টাকা। তার মাঠের ফলন দেখে উচ্ছাসিত হয়ে একই গ্রামের অন্য কৃষকরাও খুশি। উপজেলার অন্যান্য এলাকা থেকে তার ডাব বেগুনের ফসল দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। আগামী বছর তারাও এই জাতের বেগুন চাষ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এই বেগুনের এই জাত হাইব্রিড নয়। দেশীয় উচ্চ ফলনশীল ও উচ্চ মূল্যের হওয়াই ভালো বাজার মূল্যে পেয়ে অধিক লাভবান হয়েছে কৃষকরা। যেহেতু এই জাতের বেগুন চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন তাই আগামীতে উপজেলার অন্য উৎসাহি কৃষকদের মঝে আমরা এই জাত ছড়িয়ে দিতে চাই। এতে করে পুরাতন ধারার বেগুন চাষ থেকে কৃষকরা বেরিয়ে এসে এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষে লাভবান হতে পারেন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক একই জমিতে একই ফসলের অধিক ফলন পাওয়ার জাতের ফসল চাষে সব সময় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি।