ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় ২৪ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে নওগাঁয় শুরু হয়েছে হামের টিকাদান লালপুরে জামাতের কর্মীর অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে অভিযান ২ লক্ষ টাকা জরিমানা  লালপুরে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন তানোরে প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায় নওগাঁয় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ রাজশাহীতে বর্ডারে বিজিবি নজরদারিতে অবহেলার অভিযোগ রাণীশংকৈলে ​নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যু কে.পি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবীন বরণ,বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

১৮ বছর পর বাঘার আলোচিত রেবেকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

রাজশাহী ব্যুরোঃ দীর্ঘ সাড়ে ১৮ বছর পর বাঘার আলোচিত রেবেকা (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, রাজশাহী। উক্ত মামলায় বাদীই হচ্ছে আসল হত্যাকারি। এমন তথ্য নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল ২০২৩) সকাল ১১ টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানাযায়, ২০০৪ সালের ০৯ জুন রাত্রে খুন হয় বাঘা উপজেলার লক্ষিনগর গ্রামের মোঃ আকসেদ আলীর ১৩ বছরের মেয়ে (শিশু) মোঃ রেবেকা খাতুন। এরপর ১০ তারিখে রেবেকার পিতা বাদী হয়ে বাঘা থানায় ধারা ১৪৭/ ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩০২/ ৪২৭/ ৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নাম্বার ১৬। সেই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাত করে আসামী করা হয়। মামলাটি নিয়ে বাঘা থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাব- ইন্সপেক্টর রেজাউল ইসলাম কর্তৃক তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় মামলাটির তদন্ত করার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়। পরে এসআই মাহতাব হোসেন এজাহারনামীয় আসামীদের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত পুলিশ রিপোর্ট আমলে গ্রহন করিয়া বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া মামলাটির মুল রহস্য ও প্রকৃত অপরাধিদের খুজে বের করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই রাজশাহীকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর ২২ সালের জুন মাসে পিবিআই এর কাছে মামলাটি আসলে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। মামলাটি নিয়ে পিবিআই রাজশাহীর তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক খায়রুল ইসলামের গভীর পর্যালোচনা ও সাক্ষিদের জবানবন্দীতে মামলাটির আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে জানা যায়, এই মামলার বাদী অর্থাৎ শিশু রেবেকা’র পিতা আকসেদ আলী এই হত্যাকান্ড করেন। এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বাদীর ১ম স্ত্রী মোসাঃ ভায়লা বেওয়া (৬৫) এবং ২য় স্ত্রী মোসাঃ আফিয়া বেওয়া (৬০)। এমন তথ্য উল্লেখ করে গত ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট এর নিকট কাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এই মামলা সম্পর্কে আরও জানা যায় যে, ঐ এলাকায় বাদী এবং আসামীদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজামা সংক্রান্ত মামলা চলছিল, যা এখনও চলমান আছে। মুলত সেই সকল মামলা থেকে ফাইদা নিতে বাদী এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে পতিপক্ষদের আসামী করেন। পরে মামলাটির সম্পর্কে আরও বলেন, ২০১৯ সালে বাদী আকসেদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী’রা মুখ খুলেছেন। এবং তারা বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এতদিন পর তার স্ত্রীরা কেন এই তথ্য প্রকাশ করলেন জানতে চাইলে, তিনি বলেন, এতদিন তারা স্বামির ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। মামলাটির আরও অনুসন্ধান চলছে, এই হত্যার সাথে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে, আমরা সেটা উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। তবে মামলাটির এজাহার ভুক্ত কয়েকজন আসামী মারা গেছেন এবং বাঁকী আসামীরা জামিনে রয়েছেন।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় ২৪ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

১৮ বছর পর বাঘার আলোচিত রেবেকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩
রাজশাহী ব্যুরোঃ দীর্ঘ সাড়ে ১৮ বছর পর বাঘার আলোচিত রেবেকা (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, রাজশাহী। উক্ত মামলায় বাদীই হচ্ছে আসল হত্যাকারি। এমন তথ্য নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল ২০২৩) সকাল ১১ টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানাযায়, ২০০৪ সালের ০৯ জুন রাত্রে খুন হয় বাঘা উপজেলার লক্ষিনগর গ্রামের মোঃ আকসেদ আলীর ১৩ বছরের মেয়ে (শিশু) মোঃ রেবেকা খাতুন। এরপর ১০ তারিখে রেবেকার পিতা বাদী হয়ে বাঘা থানায় ধারা ১৪৭/ ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩০২/ ৪২৭/ ৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নাম্বার ১৬। সেই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাত করে আসামী করা হয়। মামলাটি নিয়ে বাঘা থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাব- ইন্সপেক্টর রেজাউল ইসলাম কর্তৃক তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় মামলাটির তদন্ত করার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়। পরে এসআই মাহতাব হোসেন এজাহারনামীয় আসামীদের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত পুলিশ রিপোর্ট আমলে গ্রহন করিয়া বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া মামলাটির মুল রহস্য ও প্রকৃত অপরাধিদের খুজে বের করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই রাজশাহীকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর ২২ সালের জুন মাসে পিবিআই এর কাছে মামলাটি আসলে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। মামলাটি নিয়ে পিবিআই রাজশাহীর তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক খায়রুল ইসলামের গভীর পর্যালোচনা ও সাক্ষিদের জবানবন্দীতে মামলাটির আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে জানা যায়, এই মামলার বাদী অর্থাৎ শিশু রেবেকা’র পিতা আকসেদ আলী এই হত্যাকান্ড করেন। এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বাদীর ১ম স্ত্রী মোসাঃ ভায়লা বেওয়া (৬৫) এবং ২য় স্ত্রী মোসাঃ আফিয়া বেওয়া (৬০)। এমন তথ্য উল্লেখ করে গত ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট এর নিকট কাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এই মামলা সম্পর্কে আরও জানা যায় যে, ঐ এলাকায় বাদী এবং আসামীদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজামা সংক্রান্ত মামলা চলছিল, যা এখনও চলমান আছে। মুলত সেই সকল মামলা থেকে ফাইদা নিতে বাদী এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে নিজের মেয়েকে হত্যা করে পতিপক্ষদের আসামী করেন। পরে মামলাটির সম্পর্কে আরও বলেন, ২০১৯ সালে বাদী আকসেদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী’রা মুখ খুলেছেন। এবং তারা বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এতদিন পর তার স্ত্রীরা কেন এই তথ্য প্রকাশ করলেন জানতে চাইলে, তিনি বলেন, এতদিন তারা স্বামির ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। মামলাটির আরও অনুসন্ধান চলছে, এই হত্যার সাথে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে, আমরা সেটা উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। তবে মামলাটির এজাহার ভুক্ত কয়েকজন আসামী মারা গেছেন এবং বাঁকী আসামীরা জামিনে রয়েছেন।