বখাটেদের অত্যাচারে, কুষ্টিয়ার মিরপুরে চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

97

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বখাটেদের অত্যাচারের পর বাড়িতে ফিরে চিরকুট লিখে নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগ যৌন হয়রানী করার কারনেই লজ্জাই আত্মহত্যা করছে সে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে।

মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানাযায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী চাঁদনী আক্তার মুন্নী (১৫) তার চাচাতো বোনের বিয়ে উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। পথে মধ্যে এলাকার চার বখাটে আরোবিয়ার ছেলে জয়নাল, আনছের আলীর ছেলে মিঠুন, রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর, নাসের রাজের ছেলে রাজু এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ জোরপুর্বক পাশেই আমলা আলু বীজ খামারে নিয়ে যায়।

তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ মুন্নীকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহিলা মেম্বার রেজেলা খাতুনের সাথে বাড়ি পাঠাই। পথের মধ্যে মেম্বারকে হুমকি দিয়ে অটো রিক্সা থামিয়ে মুন্নিকে ফের পার্শ্ববর্তী ছাদিমনের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এ সময় তার ওপর শারিরীক ভাবে নির্যাতন করা হয়। বাড়ি ফিরেই চাচার বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুন্নী।

পরে তার পড়ার টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে বখাটেদের অত্যাচারের বিষয় তুলে ধরে সে। নিহত মুন্নি উপজেলার কাতলমারি গ্রামের হেকমত আলী ভাষার মেয়ে। মুন্নীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, তাকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে। এ কারনেই এতটুকু একটি বাচ্চা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত বখাটেদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী। এদিকে নির্যাতন ও আত্মহত্যার ঘটনায় মুন্নীর পরিবার থেকে নির্যাতনকারী ৬ বখাটের নামে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কুষ্টিয়া মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে আত্বহত্যায় প্রহোচনা দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

এরই পরিপেক্ষিতে শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মুন্নির ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানায় ওসি।