কুষ্টিয়ার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ দৌলতপুর থানার নজরুল ইসলাম

334

জিল্লুর রহমান : কুষ্টিয়া জেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ‘পারফর্মেন্স এ্যাওয়ার্ড জানুয়ারি ২০১৯’ প্রদান করা হয়। এতে কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানা পুলিশের বর্তমান (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মোঃ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি’র সম্মাননা। ওসি নজরুল ইসলাম তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০৩ সালে ক্যাডেট সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কাজ করেন লম্বা সময়।

২০১৩ সালে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানায় প্রথম যোগ দেন ওসি পদে। একই জেলার ডিবি পুলিশে কাটানোর পর আবার ফিরে যান রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানায় পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। দৌলতপুর থানার (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মোঃ নজরুল ইসলাম সম্প্রতি নানা কারনে বেশ আলোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলা প্রায় মাদকমুক্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তার ভূমিকা সব শ্রেণীর মানুষের কাছে এখন প্রশংসিত।

এছাড়া থানা এলাকায় নানামুখ কার্যক্রম, থানার স্টাফদের সাথে ভোরের আলো আসার আগেই বেড়িয়ে পড়েন আসামি গ্রেফতার অভিযানে। এতে তিনি বেশ সুনাম-সুখ্যাতিও কুড়িয়েছেন। দৌলতপুরের সর্বত্র হাট-বাজারে চুরি-ডাকাতি রোধে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কিশোর-যুবকদের বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উন্নতির দিকে ধাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করেছেন। সব মিলিয়ে ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম বেশ কিছু সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত এক সময়ের ক্রাইমজোন দৌলতপুর থানা এখন প্রায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলায় রুপান্তরিত হওয়ার সন্নিকটে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যোগদানের শুরু থেকেই তার জেহাদ চলছে। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে দৌলতপুর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে দৌলতপুরের অনেকেই বলছেন, ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম যোগদান করার পর চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে সুপরিচিত হয়েছেন। অতি সল্প সময়ে দৌলতপুরে ক্রাইম দমনে তার ভূমিকা সর্বমহলে বেশ আলোচিত। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাল্যবিবাহ, মাদক ও তথ্য- প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায়ই তাকে সচেতনমূলক আলোচনা সভা করতে দেখা গেছে। উপজেলা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ও পৌরসভার এবং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাকে নি:স্বার্থ সহায়তা করায় অদ্যবধি বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা মামলার ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ রাজনৈতিক দলগুলোর কোন নেতাকর্মীদের হয়রানি না করায় তাদের মধ্যে এখনও সৌহার্দ্যপুর্ন বসবাস রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিগত অনেক বছরের তুলনায় দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো রয়েছে। আগের তুলনায় মাদক ও সন্ত্রাস অনেকটা নির্মূল হয়েছে। ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম দৌলতপুরে যোগদান করার পর থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চুরি-ডাকাতির ভয় ছেড়ে খুব স্বস্তিতে আছে। তারা বলেন, ওসি’র কঠোর অবস্থানের কারনে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও রাঘববোয়াল চাঁদাবাজরা সটকে পড়তে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের ধারনা মতে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন উপজেলার তুলনায় দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সিথিল রয়েছে। জানা গেছে, মোঃ নজরুল ইসলাম তার কর্মজীবনে একজন সফল ওসি। তিনি দৌলতপুর থানায় যোগদানের পর থেকে নিজ যোগ্যতা আর দক্ষতার বলে দৌলতপুরে সচেতন ও সাধারণ এলাকাবাসীর মন জয় করেছেন। সেই সাথে একজন সফল ওসি হিসেবে যত গুণাবলী প্রয়োজন তা তিনি দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। দৌলতপুর থানায় যোগদানের পর থেকে থানা এলাকা থেকে টাউট-বাটপার ও দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়েছে। পুলিশী সেবা গ্রহীতাদের এখন আর দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদ বিরোধী অভিযানেও সফল হয়েছেন। ধনী-গরীব সবার জন্য ওসির দরজা সব সময় উন্মোক্ত করেছেন তিনি।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম। ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে বলেন, মানুষের সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। ওসি হিসেবে যতদিন কর্মরত আছি, ততদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিরলস ভাবে আমার দায়িত্ব পালন করবো। যাতে করে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে ও স্বস্তিতে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, আমি মানবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

কেউ যদি কোথাও সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করে আর সে ঘটনা যদি পুলিশকে জানানো হয় তাহলে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম আরো বলেন, অপরাধ দমনের পাশাপাশি দৌলতপুরকে জঙ্গী সন্ত্রাস ও মাদক, নির্মূলে টেকসই আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও জন প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে থাকবে। তিনি অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিহীত কারো সাথে কেউ যদি ব্যবহার খারাপ করে সে যত বড় নেতাই হউক না কেন উচিৎ জবাব দেওয়া হবে। অপরদিকে আমার অধিনস্থ কোন অফিসার বা সদস্য কোন অপকর্ম করছে বলে প্রমানিত হলে আমাকে জানালে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।