ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার মৌলীবাজার মডেলনথানার ওসি সাইফুলের উক্তি ১৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হলে ও থানার অফিসার ইনচার্জ ভাগ্যে জোটেছে২৫ সালে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের দম্পতি গ্রেফতার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের যশোর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর রাজশাহীর বিভিন্ন দেওয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস বিরোধী পোষ্টার জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ কুষ্টিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফডারশনর বিশাল গণমিছিল ও সমাবশ অনুষ্ঠিত নাগরপুরে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দৌলতপুরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ইউনিট পরিদর্শন নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জেলে নিখোঁজ, পরিবারের দাবি হত্যা

অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জেলে নিখোঁজ, পরিবারের দাবি হত্যা

হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ঘাট এলাকায় মাছ ধরছিলেন। খবর পেয়ে ইলিশ শিকার বন্ধে সেখানে অভিযানে যান জেলা ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা। এ অভিযানে তাদের সাথে ভেড়ামারার পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। নদীতে অভিযানকারী স্পিড বোট দেখ‌তে পে‌য়ে নদীতে ঝাঁপ দেন জেলে তসলিম। এমনটা দাবি করেছেন কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী। তবে নিখোঁজ তসলিমের পরিবারের দাবি, মাঝ নদীতে তসলিমকে লাঠি দিয়ে মারপিট করলে সে নৌকা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ তসলিম (৫২) ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা নতুন পাড়া এলাকার লোকমান মন্ডলের ছেলে। সে এক ছেলে ও এক মেয়ের সন্তানের বাবা।

রায়টা গ্রামের মৃত জামাত পরামানিকের ছেলে নাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি আর তসলিম বুধবার বিকালে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যায়। এসময় স্পিটবোড নিয়ে ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযানে আসেন মৎস কর্মকর্তারা। তাদের সাথে মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও হার্ডিং ব্রিজ ক্যাম্পের পুলিশ, ভেড়ামারা উপজেলার সিনিয়র মৎস অফিসার শাম্মী শিরিন ছিলো। তারা আমাদের নৌকায় কাছে আসে এবং লাঠি দিয়ে তসলিমকে আঘাত করে। তাদের আঘাতে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। এরপর সে পানি ভেসে উঠলে আবারও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এবং আমি পালিয়ে আসি। আমাদের জেল জরিমানা করতে পারতো তারা, কিন্তু মারপিট করা ঠিক হয়নি। মাঝ নদীতে নিখোঁজ হয়েছে তসলিম। তাকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল তসলিমের লাশ খোঁজার জন্য পদ্মা নদীতে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু ঘটনার কথা জানতে পেরে রাতেই ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং নিখোঁজ হওয়া তসলিমের পরিবারকে সান্তনা দেন। তিনি বলেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যে দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান পদ্মা নদীতে মৎস্য কর্মকর্তারা অভিযানে যাবে এই ধরনের কোন আমাকে জানানো হয়নি। ক্যাম্প থেকে যে পুলিশ সদস্য গেছে তারাও আমাকে জানায়নি। মৎস্য কর্মকর্তারা ক্যাম পুলিশকে নিয়ে গেছে। যে পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গিয়েছিল তাদেরকে গতকাল বুধবার রাতে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন জানান, আমরা রুটিন মাফিক জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে স্পিডবোট নিয়ে পদ্মা নদীতে অভিযানে গিয়েছিলাম, আমাদের দেখে মাছধরা জেলে নৌকা জোরে চালাতে গিয়ে একজন জেলে পানিতে পড়ে যায়। তবে আমরা কোন জেলেকে আঘাত করি নাই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। লাশ এখনো পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার মৌলীবাজার মডেলনথানার ওসি সাইফুলের উক্তি ১৯ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি হলে ও থানার অফিসার ইনচার্জ ভাগ্যে জোটেছে২৫ সালে

অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জেলে নিখোঁজ, পরিবারের দাবি হত্যা

আপডেট টাইম : ০৮:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩

অভিযান দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জেলে নিখোঁজ, পরিবারের দাবি হত্যা

হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ঘাট এলাকায় মাছ ধরছিলেন। খবর পেয়ে ইলিশ শিকার বন্ধে সেখানে অভিযানে যান জেলা ও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা। এ অভিযানে তাদের সাথে ভেড়ামারার পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। নদীতে অভিযানকারী স্পিড বোট দেখ‌তে পে‌য়ে নদীতে ঝাঁপ দেন জেলে তসলিম। এমনটা দাবি করেছেন কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী। তবে নিখোঁজ তসলিমের পরিবারের দাবি, মাঝ নদীতে তসলিমকে লাঠি দিয়ে মারপিট করলে সে নৌকা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ তসলিম (৫২) ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা নতুন পাড়া এলাকার লোকমান মন্ডলের ছেলে। সে এক ছেলে ও এক মেয়ের সন্তানের বাবা।

রায়টা গ্রামের মৃত জামাত পরামানিকের ছেলে নাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি আর তসলিম বুধবার বিকালে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যায়। এসময় স্পিটবোড নিয়ে ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযানে আসেন মৎস কর্মকর্তারা। তাদের সাথে মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও হার্ডিং ব্রিজ ক্যাম্পের পুলিশ, ভেড়ামারা উপজেলার সিনিয়র মৎস অফিসার শাম্মী শিরিন ছিলো। তারা আমাদের নৌকায় কাছে আসে এবং লাঠি দিয়ে তসলিমকে আঘাত করে। তাদের আঘাতে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। এরপর সে পানি ভেসে উঠলে আবারও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এবং আমি পালিয়ে আসি। আমাদের জেল জরিমানা করতে পারতো তারা, কিন্তু মারপিট করা ঠিক হয়নি। মাঝ নদীতে নিখোঁজ হয়েছে তসলিম। তাকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল তসলিমের লাশ খোঁজার জন্য পদ্মা নদীতে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু ঘটনার কথা জানতে পেরে রাতেই ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং নিখোঁজ হওয়া তসলিমের পরিবারকে সান্তনা দেন। তিনি বলেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যে দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান পদ্মা নদীতে মৎস্য কর্মকর্তারা অভিযানে যাবে এই ধরনের কোন আমাকে জানানো হয়নি। ক্যাম্প থেকে যে পুলিশ সদস্য গেছে তারাও আমাকে জানায়নি। মৎস্য কর্মকর্তারা ক্যাম পুলিশকে নিয়ে গেছে। যে পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গিয়েছিল তাদেরকে গতকাল বুধবার রাতে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন জানান, আমরা রুটিন মাফিক জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে স্পিডবোট নিয়ে পদ্মা নদীতে অভিযানে গিয়েছিলাম, আমাদের দেখে মাছধরা জেলে নৌকা জোরে চালাতে গিয়ে একজন জেলে পানিতে পড়ে যায়। তবে আমরা কোন জেলেকে আঘাত করি নাই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। লাশ এখনো পাওয়া যায়নি।