পাবনায় নিহত ফারুক হোসেন হত্যায় জড়িত প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেফতার

69

পাবনায় ৮ মাস আগে নিহত ফারুক হোসেন হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই। এ হত্যায় জড়িত প্রধান আসামিসহ দুজনকে বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আমিনপুর থানার ভাটিকয়া গ্রামের মো. আব্দুর সাত্তার শেখের ছেলে মো. মাসুম শেখ এবং আমিনপুর থানা ভাদুরবাগ গ্রামের মো. ওয়াজেদ কাজী ছেলে মো. আসলাম কাজী সন্টু। নিহত ফারুক হোসেন রংপুর সদর উপজেলার উত্তম-বানিয়াপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলী ছেলে।

তিনি পাবনায় একটি ঔষধ কোম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করতেন।
পিবিআই পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৮ অক্টোবর ফারুক তার কাজ শেষে পাবনায় আসার জন্য ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের মাধপুর বাজার থেকে একটি ছিনতাইকারী চক্রের মাইক্রোবাসে ওঠেন। ওই মাইক্রোবাসে আতাইকুলা বাজার এলাকা থেকে আরো দুইজন যাত্রী ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ছিনতাইকারীরা দুই যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেন। কিন্তু ফারুক তার টাকা পয়সা কেড়ে নিতে ছিনতাইকারীদের বাধা দেন। এতে ছিনতাইকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ফারুকেরই ব্যাগের ফিতা দিয়ে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে গাড়ির ভিতরেই হত্যা করেন।

এরপর ছিনতাইকারীরা অন্য দুই যাত্রীকে মাইক্রো থেকে মহাসড়কের এক জায়গায় ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেন। আর ফারুকের মরদেহ বেড়া উপজেলার কাশীনাথপুরে বাজারের পাশে বিরাহিমপুর ব্র্যাক অফিসের সামনে ফেলে রেখে যায়। এঘটনায় ৯ অক্টোবর নিহত ফারুকের ভাই মিজানুর রহমান আমিনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

কিন্তু থানা পুলিশ ৮ মাসেও এর কুল কিনারা করতে পারেনি। শেষে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পিবিআই এর পাবনা জেলা প্রধান মামলাটি তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে এসআই নজরুল ইসলামের উপর তদন্ত ভার দেন। পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম কিছুদিনের মধ্যেই তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার রহস্য উদঘাটন করে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পিবিআই পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত এসপি তরিকুল ইসলাম জানান, ফারুক হত্যায় জড়িতরা গত কয়েকমাস ধরে নানা কৌশলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে বেড়িয়েছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় তাদের নিজ বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই পাবনা জেলা প্রধান মো. তরিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।