গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ অবকাঠামো ও শিক্ষায় আগের চেয়ে অনেক উন্নত

34

শাহীন,মেহেরপুর: গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাত্র চার বছরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি এইচ এম এরশাদ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা কাল থেকে একটি মাত্র বিল্ডিং নিয়ে কলেজে পাঠদান চলত। পরে বিএনপি সরকারের আমলে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। এর পর থেকে তেমন কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়েনা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ২৩ মে জাতীয় করণ হয়। এর আগে ২০১৪-১৫ সেশন থেকে ৪ টি বিষয়ের উপর অনার্স কোর্স চালু হয় এর পরপরই ২০১৬-১৭ সেশন থেকে বাংলা ও ব্যবসা ব্যাবস্থাপনা বিষয়ের উপর মাষ্টার্স চালু হয়।
গাংনী ডিগ্রী কলেজে ২০১৪ সালে ডিগ্রী পর্যন্ত শিক্ষক ছিল ৫৪ জন বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা ৬৮ জন হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে বিষয় ভিত্তিকের উপর শিক্ষক সংকট রয়ে গেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোঃ মনিরুল ইসলাম।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকনের সহযোগিতায় কলেজটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দু’টি হোস্টেল এরই মধ্যে বরাদ্দ হয়েছে বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম জানান,প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আরো সহযোগিতারও আশ্বাস দেন বর্তমান এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন।
এর আগে কলেজের সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা দুর্বল ছিল এমনকি কলেজ করিডোর ও অফিস ভবনে কোন নিরাপত্তা গ্রিল ছিলনা যে কারণে পরীক্ষা চলাকালিন সময়ও বহিরাগত লোকজন চলাফেরা করত। বর্তমানে কলেজের নিরাপত্তা আগের চাইতে অনেক উন্নত।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটিতে শহীদ মিনার ছিলনা সাবেক এমপি মোঃ মকবুল হোসেন এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিতে সুন্দর একটি শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে এছাড়াও কলেজ মসজিদের ওজুখানাও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন করে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নয়নে জেলা পরিষদ থেকেও সহযোগিতা পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এর আগে কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর অনেক দিন পর একটি তৃতীয় তলা বিল্ডিং নির্মিত হয়েছিল। মাত্র চার বছরে কলেজটির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও শিক্ষক ও কর্মচারিদের কর্মক্ষেত্র গুলো আগের তুলনায় আরো সহজ হয়েছে।
অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর থেকে কলেজের উন্নয়নে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সব সময় আমার সহযোগি শিক্ষকদের নিয়ে কলেজটির উন্নয়নে মতবিনিময় করে থাকি। তারপরও আমার এ প্রতিষ্ঠানটিতে এখনও বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে তবে চেষ্টা করছি এ সমস্যারও দ্রæত সমাধান করতে পারব।

তিনি আরও জানান,সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে কলেজে একটি ৪তলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও কলেজের উন্নয়নে বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে আরো উন্নয়ন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে আসছেন বলে তিনি জানান। তিনি বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য দেড়’শটি বেঞ্চ এর ব্যাবস্থা করেছেন বলে জানা যায়।সুশিল সমাজের অনেকেই বলেন বিগত চার থেকে পাঁচ বছরে গাংনী ডিগ্রী কলেজে অবকাঠামোগত যেমন উন্নতি হয়েছে পাশাপাশি শিক্ষার মানও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।