ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন কুষ্টিয়া-১ আসনে বিজয়ের পর শান্তির বার্তা- দৌলতপুরে সহনশীল রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ কুষ্টিয়া-১-এ ধানের শীষের ঝড়- ৮০ হাজার ভোটে রেজা আহমেদ বাচ্চুর জয় দৌলতপুরে ভোটগ্রহণ শুরু, এজেন্ট সংকট নিয়ে অভিযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজশাহীর ৬ আসনে ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভেড়ামারায় বিএনপি’র বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত বাগমারায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে ভেড়ামারায় হোমিও দোকানের আড়ালে ভারতীয় মদ, ৩৬০ বোতল উদ্ধার পঞ্চগড় ২ আসনে বিএনপি জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৫, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক 

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে শনিবার (১৪.০২.২৬) এক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের দস্যুবাহিনী জোট বদ্ধ হয়ে ময়েনদিয়া এলাকায় হামলা করতে আসলে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। খারদিয়ার বাহিনী এসময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকা পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর নির্বাচনের দিন বাড়িতে ফিরে ভোট দিতে যায়। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের যুদ্ধাপরাধ মামলার ১৭ নং স্বাক্ষী আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান মাতুব্বর নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগদান করেন।

তিনি বাড়িতে ফেরায় ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খারদিয়া গ্রামের মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাসুম বিল্লাহ জিহাদের পক্ষের কয়েকশত লোক শনিবার সকাল ৯টার দিকে ময়েনদিয়া এলাকায় ঢুকে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এদেরকে প্রতিহত করতে ময়েনদিয়া, নটখোলা, পরমেশ্বরদীর লোকজন পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে নটখোলা গ্রামের আনোয়ার (৫০), আশরাফ (৫০), খারদিয়া গ্রামের মন্টু (৫০) ও সূর্যদিয়া গ্রামের মাহাবুলকে (২৯) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফাতিমা ইসরাত জাহান গুরুতর আহত প্রথম তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। মাহাবুলকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও সে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। অন্যদেরকে পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ময়েনদিয়ার জাকির খানের বাড়িতে আগুন দিলে বাড়িটি পুড়ে যায়। এসময় খোকন মহালদার, রাজ্জাক মহালদার, আল আমিন শিকদার, ফরিদ মুন্সী, দেলোয়ার মহালদার ও নুর ইসলাম শিকদারের বাড়িঘরে ভাংচুর চালানো হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইন্ড গ্রেনেড ব্যবহার, লাঠি চার্জ, মাইকিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে। ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম খান, মধুখালী-বোয়ালমারী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খান ও বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে যান।

নটখোলা গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতেই খারদিয়া এলাকার লোকজন এ হামলা চালায়। পরে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করি।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর বলেন, ওরা আমাকে বাড়িতে থাকতে দিবে না। আমি কেন বাড়িতে ফিরলাম ? ৫ আগস্টের পর দুইবার আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকেই আমি বাড়ি ছাড়া। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে ফিরেছিলাম। হয়তো বাড়ি থাকা হবে না। মাসুম বিল্লাহ জিহাদের বক্তব্য নিতে তাঁর মোবাইলে (০১৭১৫-২৫০৪৫৯) একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়।

মধুখালী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খান বলেন, আমরা সকাল থেকেই এখানে আছি। এটা ননপলিটিক্যাল ইস্যু। মূলত সংঘর্ষটা ময়েনদিয়া বাজার কেন্দ্রিক। খারদিয়ারা বাজারের কর্তৃত্ব নিতে চায়। ময়েনদিয়ারা ধরে রাখতে চায়। এর আগেও কয়েকবার হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ খারদিয়ারা জোটবদ্ধভাবে ঢুকে পড়ে। কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়। হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

সেনা বাহিনী পুলিশ চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়। একাধিক রাস্তা, তাই এক রাস্তা ঠেকালে আরেক রাস্তায় ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই দিন দুপুরে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কেরশাইল গ্রামের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দু’জন আহত হয়। আহত দু’জনের মধ্যে সলেমান খানকে (৩০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর আলাউদ্দিন শেখকে (৪৮) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ

আপডেট টাইম : ০৪:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষবাড়িঘরে হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়ে শনিবার (১৪.০২.২৬) এক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের দস্যুবাহিনী জোট বদ্ধ হয়ে ময়েনদিয়া এলাকায় হামলা করতে আসলে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায়। খারদিয়ার বাহিনী এসময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকা পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর নির্বাচনের দিন বাড়িতে ফিরে ভোট দিতে যায়। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের যুদ্ধাপরাধ মামলার ১৭ নং স্বাক্ষী আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান মাতুব্বর নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগদান করেন।

তিনি বাড়িতে ফেরায় ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খারদিয়া গ্রামের মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাসুম বিল্লাহ জিহাদের পক্ষের কয়েকশত লোক শনিবার সকাল ৯টার দিকে ময়েনদিয়া এলাকায় ঢুকে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এদেরকে প্রতিহত করতে ময়েনদিয়া, নটখোলা, পরমেশ্বরদীর লোকজন পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে নটখোলা গ্রামের আনোয়ার (৫০), আশরাফ (৫০), খারদিয়া গ্রামের মন্টু (৫০) ও সূর্যদিয়া গ্রামের মাহাবুলকে (২৯) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফাতিমা ইসরাত জাহান গুরুতর আহত প্রথম তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। মাহাবুলকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও সে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। অন্যদেরকে পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ময়েনদিয়ার জাকির খানের বাড়িতে আগুন দিলে বাড়িটি পুড়ে যায়। এসময় খোকন মহালদার, রাজ্জাক মহালদার, আল আমিন শিকদার, ফরিদ মুন্সী, দেলোয়ার মহালদার ও নুর ইসলাম শিকদারের বাড়িঘরে ভাংচুর চালানো হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইন্ড গ্রেনেড ব্যবহার, লাঠি চার্জ, মাইকিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে। ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম খান, মধুখালী-বোয়ালমারী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খান ও বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে যান।

নটখোলা গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতেই খারদিয়া এলাকার লোকজন এ হামলা চালায়। পরে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করি।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর বলেন, ওরা আমাকে বাড়িতে থাকতে দিবে না। আমি কেন বাড়িতে ফিরলাম ? ৫ আগস্টের পর দুইবার আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকেই আমি বাড়ি ছাড়া। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে ফিরেছিলাম। হয়তো বাড়ি থাকা হবে না। মাসুম বিল্লাহ জিহাদের বক্তব্য নিতে তাঁর মোবাইলে (০১৭১৫-২৫০৪৫৯) একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়।

মধুখালী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খান বলেন, আমরা সকাল থেকেই এখানে আছি। এটা ননপলিটিক্যাল ইস্যু। মূলত সংঘর্ষটা ময়েনদিয়া বাজার কেন্দ্রিক। খারদিয়ারা বাজারের কর্তৃত্ব নিতে চায়। ময়েনদিয়ারা ধরে রাখতে চায়। এর আগেও কয়েকবার হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ খারদিয়ারা জোটবদ্ধভাবে ঢুকে পড়ে। কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়। হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

সেনা বাহিনী পুলিশ চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়। একাধিক রাস্তা, তাই এক রাস্তা ঠেকালে আরেক রাস্তায় ঢুকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। একই দিন দুপুরে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কেরশাইল গ্রামের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দু’জন আহত হয়। আহত দু’জনের মধ্যে সলেমান খানকে (৩০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর আলাউদ্দিন শেখকে (৪৮) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।