ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ

মোহনপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানব পাচার চক্রের সন্ধান

মোহনপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানব পাচার চক্রের সন্ধান

রাজশাহী ব্যুরো: জীবন বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে লোভনীয় প্রলোভন দিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা এখন অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চক বিরহী গ্রামে। গ্রামটির কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রণব কুমার সাহা জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ভুট্টো মৃধার সঙ্গে। পরে তিনি জানতে পারেন, ভুট্টো মৃধার বাড়ি মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চক বিরহী গ্রামে। ভুট্টো মৃধা একই গ্রামের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের হয়ে কাজ করেন বলে পরিচয় দেন। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাদে মশিউর রহমানের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এতে তাদের বিশ্বাস জন্মায়। পরবর্তীতে ১৪ লাখ টাকার চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা ভুট্টো মৃধাকে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। এ সময় চারজনের নামে আলাদা আলাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তাদের দেওয়া কাগজপত্র সম্পূর্ণ জাল। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আটকে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকরা ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে মোহনপুরের চক বিরহী এলাকায় অসংখ্য ভুক্তভোগীর সন্ধান পান।
মির্জাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তাকে এশিয়ার লাওস দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখান মশিউর রহমানের বড় ভাই মতিউর রহমান। মতিউর রহমান কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কথায় বিশ্বাস করে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে কালামসহ একই এলাকার আরও কয়েকজন লাওসে যেতে সম্মত হন। তাদের মধ্যে মোট ১২ জনকে ওই দেশে পাঠানো হয় বলে জানা যায়। তবে সেখানে গিয়ে তারা কোনো কাজ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন। পরে বহু বিপদ অতিক্রম করে তারা দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর দাবি, মোহনপুর ছাড়াও বাগমারা উপজেলার বাইগাছা ও সাঁইপাড়া এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়রা জানান, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের অনেক যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে এলাকায় অসংখ্য পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত ভুট্টো মৃধার সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এজন্য সময় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের মাধ্যমে এবং পরে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার সবুজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করেছেন।
এদিকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে আন্টার্কটিক মহাসাগরে একটি জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে কেশরহাট কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজে তিনি জড়িত নন। তার দাবি, তার ছোট ভাই এলাকার কিছু বেকার যুবককে বিদেশে পাঠিয়েছে এবং তারা ভালো আছে। তবে একটি গ্রুপ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভুট্টো মৃধা তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে। তবে যাদের সমস্যা হয়েছে তাদের তিনি নিজ খরচে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, জাল কাগজপত্র তৈরি, প্রতারণা এবং বিদেশে পাঠানোর নামে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, প্রতারণা, প্রলোভন বা জবরদস্তির মাধ্যমে কাউকে পাচার করা বা পাচারের চেষ্টা করলে তা মানব পাচার হিসেবে গণ্য হবে। আর এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। শুধু তাই নয়, ধারা ৮ অনুযায়ী, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো সংঘবদ্ধ চক্র থাকলে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতারণা ও মানব পাচার উভয়েই অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
মোহনপুর উপজেলার এই সকল চক্রের ব্যাপার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা বিনতে আখতার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ধরনের কর্মকান্ড হলে অবশ্যই খারাপ। বিষয়টি আমার আমার জানা নাই। যদি এই ধরনের অপরাধ করে থাকে তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মোহনপুরের ওসি পোস্টিং হয়েছে, নতুন যিনি আসবেন আমি তাকে নির্দেশ দিব বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের।

Tag :

নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

মোহনপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানব পাচার চক্রের সন্ধান

আপডেট টাইম : ০৯:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মোহনপুরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানব পাচার চক্রের সন্ধান

রাজশাহী ব্যুরো: জীবন বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে লোভনীয় প্রলোভন দিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা এখন অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চক বিরহী গ্রামে। গ্রামটির কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রণব কুমার সাহা জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ভুট্টো মৃধার সঙ্গে। পরে তিনি জানতে পারেন, ভুট্টো মৃধার বাড়ি মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চক বিরহী গ্রামে। ভুট্টো মৃধা একই গ্রামের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের হয়ে কাজ করেন বলে পরিচয় দেন। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাদে মশিউর রহমানের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এতে তাদের বিশ্বাস জন্মায়। পরবর্তীতে ১৪ লাখ টাকার চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা ভুট্টো মৃধাকে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। এ সময় চারজনের নামে আলাদা আলাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তাদের দেওয়া কাগজপত্র সম্পূর্ণ জাল। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আটকে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকরা ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে মোহনপুরের চক বিরহী এলাকায় অসংখ্য ভুক্তভোগীর সন্ধান পান।
মির্জাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তাকে এশিয়ার লাওস দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখান মশিউর রহমানের বড় ভাই মতিউর রহমান। মতিউর রহমান কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কথায় বিশ্বাস করে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে কালামসহ একই এলাকার আরও কয়েকজন লাওসে যেতে সম্মত হন। তাদের মধ্যে মোট ১২ জনকে ওই দেশে পাঠানো হয় বলে জানা যায়। তবে সেখানে গিয়ে তারা কোনো কাজ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন। পরে বহু বিপদ অতিক্রম করে তারা দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর দাবি, মোহনপুর ছাড়াও বাগমারা উপজেলার বাইগাছা ও সাঁইপাড়া এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়রা জানান, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের অনেক যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে এলাকায় অসংখ্য পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত ভুট্টো মৃধার সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এজন্য সময় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের মাধ্যমে এবং পরে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার সবুজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করেছেন।
এদিকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে আন্টার্কটিক মহাসাগরে একটি জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে কেশরহাট কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজে তিনি জড়িত নন। তার দাবি, তার ছোট ভাই এলাকার কিছু বেকার যুবককে বিদেশে পাঠিয়েছে এবং তারা ভালো আছে। তবে একটি গ্রুপ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভুট্টো মৃধা তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করেছে। তবে যাদের সমস্যা হয়েছে তাদের তিনি নিজ খরচে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, জাল কাগজপত্র তৈরি, প্রতারণা এবং বিদেশে পাঠানোর নামে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, প্রতারণা, প্রলোভন বা জবরদস্তির মাধ্যমে কাউকে পাচার করা বা পাচারের চেষ্টা করলে তা মানব পাচার হিসেবে গণ্য হবে। আর এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। শুধু তাই নয়, ধারা ৮ অনুযায়ী, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো সংঘবদ্ধ চক্র থাকলে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতারণা ও মানব পাচার উভয়েই অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
মোহনপুর উপজেলার এই সকল চক্রের ব্যাপার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা বিনতে আখতার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ধরনের কর্মকান্ড হলে অবশ্যই খারাপ। বিষয়টি আমার আমার জানা নাই। যদি এই ধরনের অপরাধ করে থাকে তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মোহনপুরের ওসি পোস্টিং হয়েছে, নতুন যিনি আসবেন আমি তাকে নির্দেশ দিব বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের।