ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরো মৌসুমে ধানের চারা বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোর,মোহনপুর ও নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধানের চারা বিক্রি করে শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আমনুরা-নাচোল সড়কের ঝিলিম বাজারে বোরো মৌসুমে প্রতিদিন ধানের চারা বেচা-কেনা হয়। বোরো মৌসুমে মাত্র আড়াই মাসে প্রায় কোটি টাকার বোরো ধানের চারা বিক্রি করছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। এলাকার কৃষকরা বোরো ধানের চারা বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে বাড়তি রোজগার করছেন। এতে তাদের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। এ কাজে যুক্ত থেকে মৌসুমে বাড়তি ইনকাম করে হাসি ফুটেছে এলাকার শত শত কৃষকের মুখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তানোর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আমনুরা-নাচোল সড়কের পাশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম বাজারে প্রতিদিন বসে বোরো ধানের চারার হাট। সেখানে চারা কেনা-বেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। বেশ কয়েক বছর ধরে এই হাট থেকে ধানের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর, রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষক ও ব্যাবসায়ীরা। আর এই হাটকে ঘিরে এলাকার অনেক কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকসহ হাট সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে ধানের চারা বেচা-কেনা করে আসছেন।তিনি বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে চারা কিনতে আসে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে চারা কেনা-বেচার ধুম পড়ে। এই হাটে অন্তত দশ প্রকার ধানের চারা বেচা-কেনা হয়। রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ এলাকার কৃষক আজিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর তিনি এই হাটে চারা বেচা-কেনা করতে আসেন গত বছর থেকে প্রতি পোন চারা অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষক মুঞ্জুর রহমান জানান, প্রায় তিন বছর ধরে নিজের জমিতে চারা উৎপাদন করে এই হাটে বিক্রি করেন তিনি। এ বছর ৩০ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলেন তিনি। খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

এ হাটের চারা বিক্রেতা মাইনুল ইসলাম বলেন, ৭০ থেকে ৮০টি চারা দিয়ে এক মুঠো (আটি) করা হয়, আশি আটি চারায় এক পোন হয়। এক পোন (৮০ আটি) চারা আকার ভেদে এক হাজার থেকে এগারোশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রতি বছর তিনি স্থানীয় কৃষকদের জমি থেকে চারা কিনে এই হাটে বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে চারার চাহিদা একটু বেশি সেই জন্য দামও কিছুটা বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা (৩৩শতক) জমি রোপণ করতে দুই পণ (১৬০ আঁটি) চারা লাগে। দুই পণ চারা উৎপাদনে চার কেজি ধান বীজ লাগে।ভাল মাণের চার কেজি ধান বীজের দাম দুশ’ টাকা। নাচোলের মুরগী ডাঙা এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক জসিম জানান, গত বছরও তিনি এই হাট থেকে চারা কিনে জমিতে রোপন করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবছরও তিনি চারা কিনতে এসেছেন।তবে এবার চারার দাম একটু বেশী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক জনপ্রতিনিধি বলেন, পরিষদ ভবনের পাশের এই হাটে যারা চারা কেনা-বেচা করেন তাদের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। এই হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক মানুষের মৌসুম আয়ের সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে এলাকার অনেক কৃষক বেশি উপকৃত হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে হাট সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয় যাতে কোনো কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দিন দিন এই হাটের পরিধি বাড়ছে।#

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোরো মৌসুমে ধানের চারা বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট টাইম : ০৩:৪০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোর,মোহনপুর ও নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধানের চারা বিক্রি করে শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আমনুরা-নাচোল সড়কের ঝিলিম বাজারে বোরো মৌসুমে প্রতিদিন ধানের চারা বেচা-কেনা হয়। বোরো মৌসুমে মাত্র আড়াই মাসে প্রায় কোটি টাকার বোরো ধানের চারা বিক্রি করছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। এলাকার কৃষকরা বোরো ধানের চারা বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে বাড়তি রোজগার করছেন। এতে তাদের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। এ কাজে যুক্ত থেকে মৌসুমে বাড়তি ইনকাম করে হাসি ফুটেছে এলাকার শত শত কৃষকের মুখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তানোর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আমনুরা-নাচোল সড়কের পাশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম বাজারে প্রতিদিন বসে বোরো ধানের চারার হাট। সেখানে চারা কেনা-বেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। বেশ কয়েক বছর ধরে এই হাট থেকে ধানের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর, রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষক ও ব্যাবসায়ীরা। আর এই হাটকে ঘিরে এলাকার অনেক কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকসহ হাট সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে ধানের চারা বেচা-কেনা করে আসছেন।তিনি বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে চারা কিনতে আসে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে চারা কেনা-বেচার ধুম পড়ে। এই হাটে অন্তত দশ প্রকার ধানের চারা বেচা-কেনা হয়। রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ এলাকার কৃষক আজিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর তিনি এই হাটে চারা বেচা-কেনা করতে আসেন গত বছর থেকে প্রতি পোন চারা অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষক মুঞ্জুর রহমান জানান, প্রায় তিন বছর ধরে নিজের জমিতে চারা উৎপাদন করে এই হাটে বিক্রি করেন তিনি। এ বছর ৩০ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলেন তিনি। খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

এ হাটের চারা বিক্রেতা মাইনুল ইসলাম বলেন, ৭০ থেকে ৮০টি চারা দিয়ে এক মুঠো (আটি) করা হয়, আশি আটি চারায় এক পোন হয়। এক পোন (৮০ আটি) চারা আকার ভেদে এক হাজার থেকে এগারোশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রতি বছর তিনি স্থানীয় কৃষকদের জমি থেকে চারা কিনে এই হাটে বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে চারার চাহিদা একটু বেশি সেই জন্য দামও কিছুটা বেশি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা (৩৩শতক) জমি রোপণ করতে দুই পণ (১৬০ আঁটি) চারা লাগে। দুই পণ চারা উৎপাদনে চার কেজি ধান বীজ লাগে।ভাল মাণের চার কেজি ধান বীজের দাম দুশ’ টাকা। নাচোলের মুরগী ডাঙা এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক জসিম জানান, গত বছরও তিনি এই হাট থেকে চারা কিনে জমিতে রোপন করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবছরও তিনি চারা কিনতে এসেছেন।তবে এবার চারার দাম একটু বেশী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক জনপ্রতিনিধি বলেন, পরিষদ ভবনের পাশের এই হাটে যারা চারা কেনা-বেচা করেন তাদের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। এই হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক মানুষের মৌসুম আয়ের সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে এলাকার অনেক কৃষক বেশি উপকৃত হচ্ছে। পরিষদের পক্ষ থেকে হাট সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয় যাতে কোনো কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দিন দিন এই হাটের পরিধি বাড়ছে।#