ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ , আজকের সময় : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

দৌলতপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

দৌলতপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ নিয়ে এখন চারদিকে সরগরম পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত, আগাছা পরিষ্কার, সেচ ও পরিচর্যার ব্যস্ততা। গত মৌসুমের তুলনায় সার–কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেলেও বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে এখন আশার আলো।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে দৌলতপুরে ৩ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের আগ্রহ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান—এই তিন কারণে ফলনের সম্ভাবনা গত বছরের তুলনায় আরও বেশি।

ক্ষতির দুঃসহ স্মৃতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন,
“গত বছর পেঁয়াজ আর রসুনে ৯ বিঘা জমি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা লোকসান গুনেছি। বাজারে দাম ভালো ছিল ঠিকই, কিন্তু হঠাৎ করে আমদানির সিদ্ধান্ত আসায় দাম ভেঙে পড়ে। সেই ধস সামলাতে পারিনি।”

তবে এবার তিনি নতুন করে আশাবাদী। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন তিনি। বিঘাপ্রতি প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে; কিন্তু বাজার এখন স্থিতিশীল ও লাভজনক হওয়ায় তিনি মনে করছেন, শ্রমের ফল এবার হাতে পাবেন।

উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তবে আশা বেশি

একই এলাকার আরেক কৃষক নান্টু আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছেন।
তার ভাষায়—“বীজের দাম কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু সার আর কীটনাশকের দাম প্রায় দ্বিগুণ। পুরো ব্যয়ই বেড়ে গেছে। তারপরও ফলন ভালো হলে সব পুষিয়ে নেওয়া যাবে।”

তিনি ধারণা করছেন, প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত ফলন হতে পারে। বাজারের বর্তমান দর ধরে হিসাব করলে এ ফলন তাকে ভালোমতোই লাভবান করবে।

কৃষি বিভাগের সহায়তা ও সফলতার প্রত্যাশা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চলতি রবি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সেইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে।
তিনি বলেন, “মাঠে মাঠে কৃষি সহকারী কর্মকর্তারা গিয়ে কৃষকদের সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমনসহ সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে সহজেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি।”

কৃষকদের প্রত্যাশা—স্থিতিশীল বাজার

এবারের মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকায় কৃষকরা আশা করছেন, এ মৌসুমে তাদের কষ্ট স্বার্থক হবে। তবে সবচেয়ে বড় ভরসা—বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে এবং হঠাৎ কোনো আমদানি সিদ্ধান্তে দাম যেন না পড়ে যায়।

দৌলতপুরের মাঠে এখন যে চিত্র দেখা যাচ্ছে—ফসলের যত্ন, শ্রম আর প্রত্যাশার মিশেলে ব্যস্ত এক মৌসুম; আর কৃষকেরা তাকিয়ে আছেন ভালো ফলন ও ন্যায্য দামের দিকে।