🎨 কন্ট্রোল প্যানেল

💧 ওয়াটারমার্ক

📰 শিরোনাম

📝 নিউজ বর্ণনা

🎨 লেআউট

👥 ফুটার

Saturday, 16 March 2024
dailynewsbangla
মোহনপুরে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের শিকার অসহায় নারী – আসামী ধরতে গড়িমসি  করছে পুলিশ

মোহনপুরে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের শিকার অসহায় নারী – আসামী ধরতে গড়িমসি  করছে পুলিশ

Daily NewsBangla

মোহনপুরে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের শিকার অসহায় নারী – আসামী ধরতে গড়িমসি  করছে পুলিশ

রাজশাহী ব্যুরো: অল্প বয়সে মা’কে হারিয়ে স্মৃতি’র (ছদ্ম নাম) জীবনে নেমে আসে বিভিষিকাময় অন্ধকার। (নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়েটির নাম গোপন করা হলো)। স্থবির হয়ে যায় স্মৃতি’র শিক্ষা জীবন। পড়াশোনা আর আগিয়ে নিতে পারেনি সে। স্মৃতি মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামের মেয়ে। অষ্টম শ্রেনীতে পা রাখতেই অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল গ্রামের এক ছেলের সাথে বিয়ে হয় স্মৃতি (১৪) এর। বছর গড়াতেই কন্যা সন্তানের জননী হয় সে। এরপর স্বামী-স্ত্রী’র সংসারে শুরু হয় টানাপড়ন। অবশেষে ২৩ সালে উপজেলার হরিদাগাছী (কেশরহাট সংলগ্ন) গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে রায়হানের প্রলোভনে পড়ে স্মৃতি। আকাশ কুসুম স্বপ্ন আর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মা হারা সেই মেয়ের সাথে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে রায়হান।
এদিকে রায়হানের প্রেমে অন্ধ হয়ে স্মৃতি রায়হানের পরামর্শে তার স্বামীকে তালাক দেয় এবং রায়হানকে বিয়ের জন্য অনুরোধ করেন। পরে মেয়েটিকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাড়ির দরজায় রেখে পালিয়ে যায় রায়হান। ঘটনা অন্যদিকে গড়াবে ভেবে (ধর্ষন মামলার ভয়ে) ধামাচাপা দিতে প্রতারণার আশ্রয় নেয় রায়হানের পরিবার। অবশেষে কেশরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর আসলাম আলী, সাংবাদিক মামুনসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ২৫ ফেব্রুয়ারী রাতে ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মাত্র সত্তর হাজার টাকা দেনমোহর উল্লেখ করে বিয়ের নাটক সাজানো হয়। কারন ঐ দিন মেয়েটির পক্ষে কোন অবিভাবক ছিলনা। নাটকীয় বিয়ের মাধ্যমে রাখা হয় রায়হানের পরিবারে।
এরপর থেকে শুরু হয় মেয়েটির উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন। যৌতুকের দাবীতে বাড়িতে তালা বন্ধ করে সেই নারীকে স্বামী, ননদ ও শ্বাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়। অবশেষে ৬ মার্চ (বুধবার) নির্যাতনের শিকার হয়ে আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-তে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
চিকিৎসা শেষে ১০ মার্চ মেয়েটি বাদি হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিন জন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সুত্রে জানাযায়, বিয়ের পরদিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারধোর করে রায়হান ও তার পরিবারের লোকজন। ৬ মার্চ সকালে রান্নাঘরে গেলে ননদ মনিরা খাতুন (২৪) তার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার শাশুড়ী রোকসানা বেগম (৪৭) যৌতুকের টাকার জন্য লোহার গরম সিক দিয়ে ডান হাতের তালুতে ছ্যাকা দিয়ে পোড়া জখম করে। তারা যৌতুকের টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নিজের জীবন বাঁচাতে ধুরইল গ্রামে তার বাবার বাড়িতে পালিয়ে আসে। সেখানে তার ছোট ভাই সোহেল রানা’র সহযোগীতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওসিসি-তে ভর্তি হয় এবং চিকিৎসা গ্রহণ করে। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। এবিষয়ে মোহনপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরিদাস মন্ডল জানান, যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে, এই মর্মে ২০০০ সারের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বি:দ্র: মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ মামলার আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম অজ্ঞাত কারণে তাদের ধরছেন না। বরং তাদের জামিন নিতে সহযোগিতা করছেন তদন্তকারি কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জিল্লুর রহমান

🖨️ প্রিন্ট করুন