সাংবাদিক রাতুলকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ-ঘটনার সঙ্গে এজাহারের মিল নেই
মাদক উদ্ধারের ভিডিও ভাইরাল: সাংবাদিক রাতুলের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহী ব্যুরো: মিথ্যা মাদক মামলায় নিরপরাধ সাংবাদিক রাজীব আলী রাতুলকে ফাঁসানোর অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল। অভিযোগের তীর রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহবুব হাসানের দিকে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের হলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি চাওর হয়েছে। ভাইরাল হয়েছে তৎকালীন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা একটি ভিডিও এবং সেসময়ে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাজীব আলী রাতুল বর্তমানে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি অভিযানের নামে তাকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় জড়ানো হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাতুলের পকেট বা দেহ তল্লাশি থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
এই বক্তব্য সংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মামলার এজাহারে উল্লেখিত “পকেট থেকে হেরোইন ও ইয়াবা উদ্ধারের” দাবির সঙ্গে ঘটনার গুরুতর অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি ব্যাগ থেকে মাদকদ্রব্য বের করে রাতুল ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ভিডিওতে রাতুলকে বলতে শোনা যায়, “এই মাদক আমার না, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।” জবাবে এক পুলিশ সদস্যকে হুমকিস্বরূপ কথা বলতেও শোনা যায়। এক পুলিশ সদস্য বলছে’ এই চেঁচামেচি করনা, থাপ্পাড়ে ঠিক করে দিব।
ভিডিওতে আরও একটি ফেনসিডিলের বোতল দৃশ্যমান হলেও এজাহার কিংবা চার্জশিটে ফেনসিডিল উদ্ধারের কোনো উল্লেখ নেই। বরং সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাদকদ্রব্য রাতুলের পকেট ও হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা ভিডিওর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ঘটনায় আরএমপি’র বোয়ালিয়া থানায় সাংবাদিক রাতুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬ (১) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং- ৮৫/২০১৯)।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, মামলার তদন্তেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সঠিক চার্জশিট দেওয়ার কথা বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র এসআই আ: মতিন তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করলেও পরে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
এরপর ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সারাদেশ যখন আওয়ামী দোষরদের থামাতে মরিয়া, ঠিক তখন নিজ বাসভবন থেকে জনতার হাতে আটক হয় ডিবি’র কর্মকর্তা এসআই মাহবুব হাসান। কারন, তিনি চাকরি জীবনে বহু নিরাপরাধ মানুষের ক্ষতি সাধন করেছেন এবং ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আস্থাভাজন হয়ে ছিলেন। হাসানকে আটকের পর রাতুলের পিতার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয় এসআই হাসানকে। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথা হয় এই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসাই আ: মতিনের সাথে। তিনি বলেন, আমাকে কর্মকর্তারা যেভাবে সাক্ষি দিয়েছেন আমি সেভাবে লিখেছি। তবে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও তখন আমাকে দেওয়া হয়নি। তার এমন কথায় প্রতিবেদক জানতে চান, ভিডিওতে ফেনসিডিল দেখা গেলও সেটা কেন এজাহার বা চার্জশিট তোলা হলনা? এমন প্রশ্নে কিছুটা বিব্রত হন তিনি। তার বিরুদ্ধে উঠা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তদন্তকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে স্পষ্ট তিনি মামলা পূঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত না করেই চার্জশিট দাখিল করেছেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে যদি কোনো সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়ে থাকে, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা অবিলম্বে সাংবাদিক রাতুলের বেকসুর খালাস, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন