তানোরে বরেন্দ্র ক্যাবল নেটওয়ার্কে ভাঙচুর কোটি টাকার ক্ষতি
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।এতে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং তানোরসহ কয়েকটি উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহকের ডিসসহ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে,শনিবার(২১মার্চ ঈদের দিন) সকালে সবাই যখন ঈদের নামাজ নিয়ে ব্যস্ত,ঠিক সেই সময়ে এই হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, তানোর কুঠিপাড়া মহল্লার খাদিমুলের পুত্র হাসান হঠাৎ হাঁসুয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের অফিসে প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি অফিসের ভেতরে থাকা ডিস লাইনের যাবতীয় মূল্যবান মেশিন, ল্যাপটপ, দুটি এসি, কম্পিউটার ও ডিসের ছাতাসহ বিভিন্ন
আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত তানোর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযুক্ত হাসানকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে তানোর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে হাসানের পরিবার তাকে মানসক প্রতিবন্ধী বলে দাবি করেছে।কিন্তু সরেজমিন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দেখে প্রাথমিকভাবে এটাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।কারণ বরেন্দ্র ভবনের চার তলায় কন্ট্রোল রুম। অথচ নিচ তলার তালা ভেঙে সরাসরি চারতলায় গিয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে কন্ট্রোল রুমের সমস্ত মেশিন ভাঙচুর করা হয়।এমনকি এসি, ল্যাপটপ,কম্পিউটার ও ডিসের ছাতাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে।একজন মানসিক প্রতিবন্ধীর পক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও এতো নিখুঁতভাবে হামলা ও ভাঙচুর করা সম্ভব নয়। এর পিছনে বড় ও শক্তিশালী কোনো চক্রের জড়িত থাকার সম্ভবনা রয়েছে। সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে আর্থিকভাবে দুর্বল করতেই তারা হাসানকে দিয়ে এমন হামলা-ভাঙচুর করিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে সাধারণ মানুষ।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন,এ ঘটনায় এখানো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কেন বা কী কারণে এই ভাঙচুর হামলার ঘটনা ঘটেছে,তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।