দৌলতপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ ২, পুড়েছে গরু-ছাগলসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার সম্পদ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পূর্ব ফিলিপনগর কাচারীপাড়ায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে দুইজন দগ্ধ হয়েছেন এবং গবাদিপশুসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক মো. জানবার প্রামানিকের বাড়ির গরুর ঘরে জ্বালানো কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতের নির্জনতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই বসতঘরের বিভিন্ন অংশ গ্রাস করে।
হঠাৎ আগুন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন বাড়ির মালিক মো. জানবার প্রামানিক (পিতা: আনজিয়ার প্রামানিক) এবং প্রতিবেশী মো. হোসেন প্রামানিক (পিতা: উকিল প্রামানিক)। বর্তমানে তারা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে—
৪টি বড় গরু ও ১টি বাছুর (আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা), ৪টি ছাগল (প্রায় ৬০ হাজার টাকা), ১টি মোটরসাইকেল (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা), ২টি পানিতোলা মোটর (প্রায় ৬০ হাজার টাকা), নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, ৮ মন চাষকৃত তামাক, বসতঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এছাড়া বসতঘরের তিনটি অংশ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিবারটির বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানবার প্রামানিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। গরু-ছাগল, নগদ টাকা, ঘরের জিনিস—কিছুই বাঁচাতে পারিনি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পরপরই আশপাশের মানুষজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
সবমিলিয়ে এ ঘটনায় আনুমানিক ১১ থেকে ১২ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।