তানোরের আলু চাষিদের কান্না কেউ দেখে না

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে আলু চাষিরা ফের লোকসানের মুখে পড়েছেন। আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো। তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতাশ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।
চাষিরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগেও জমিতে নতুন আলু ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ১৪ টাকা।অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৮ টাকা।এর সঙ্গে হিমাগারে মজুদ করতে আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হবে ১২ টাকা।
অন্যদিকে বস্তা নেই অজুহাতে মজুতকারি ব্যবসায়ীরা জমি থেকে সরাসরি আলু কেনা বন্ধ করেছেন। ফলে আলুর দামে বিপর্যয় নেমে এসেছে। শুক্রবার বিভিন্ন এলাকার জমিতে আলু বিক্রি হয়েছে ১৩-১৪ টাকা কেজি দরে।সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে আলু চাষিরা।
আলু চাষিরা অভিযোগ করছেন, আলু তোলার মৌসুম শুরু হওয়ার পর বস্তা সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে। কম দামে আলু কিনতেই কৃত্রিমভাবে বস্তা সংকট তৈরি করেছে হিমাগার মালিক, জুট মিলস মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৌসুমি মজুতকারি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা। গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা সেই বস্তা এবার চাষিদের কিনতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে বস্তার অর্ডার করলে মিলছে দশ দিন পর।এতে অনেকে পানির দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। আলু চাষি লুৎফর বলেন, ৫০০ টাকা মজুরির শ্রমিকের মজুরি ৭০০ টাকা,৭০ টাকার বস্তা ২০০ টাকা,এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা আলু চাষিরা যাবে কোথায়। বাড়তি দাম দিয়ে সার-কীটনাশক ও সেচ দিয়ে আলু চাষ করাটা যেনো তাদের অপরাধ। তারা আর কতো লোকসান গুনবে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের প্রণোদনা দিয়ে টিকিয়ে রাখা উচিত।কারণ বার বার লোকসান গুনতে গুনতে তারা দেউলিয়া হয়ে কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে, সারাদেশে খাদ্য ঘাটতি ও অর্থনীতির ওপর বিরুপ প্রভাব পড়বে। উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) কালনা এলাকার আলু চাষি হাবিবুর রহমান বলেন,গত বছর ৬০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ১৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো লোকসান হবে। আলু চাষি মাহাবুর বলেন, গত বছর ৮ বিঘা আলু চাষ করে তার প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো লোকসান হবে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম।গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, কোথাও কোথাও বস্তা সংকট আছে বলে শোনা যাচ্ছে। সমস্যাটা প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক। গত বছরের তুলনায় এবার আলুর আবাদ কিছুটা কমেছে। আলু সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে চাষিদের সুবিধা হবে। ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম হওয়ায় চাষিরা দ্রুত জমি থেকে আলু তুলে ফেলছেন।
রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান জানান, বস্তা সংকট হচ্ছে জ্বালানি সংকটের কারণে। ফলে আলু চাষিরা কিছুটা সমস্যায় আছে। এতে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে না বলে তিনি দাবি করেন