দৌলতপুরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রদর্শনী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে চরাঞ্চলের কৃষিতে আসছে নতুন সম্ভাবনা
দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রদর্শনী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে “বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেহানা পারভীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ আলী আহমেদ এবং নবগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন মাস্টার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ জসিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জুলহাস উদ্দিন।
প্রদর্শনী স্থাপনকারী কৃষক মোঃ আলেক হোসেন মন্ডল তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষিবিদ ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া তার বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন টেকসইভাবে বৃদ্ধি করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। মালচিং পদ্ধতি মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, আগাছা দমন এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। কৃষকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
কম খরচে বেশি ফলনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, “বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে কম পানি ও কম শ্রমে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে মালচিং একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তি। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে চাই।”
কৃষকের সফলতা অন্যদের অনুপ্রেরণায় প্রদর্শনী স্থাপনকারী কৃষক মোঃ আলেক হোসেন মন্ডল বলেন, “মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আমার সবজি ক্ষেতে আগাছা কম হয়েছে, সেচের খরচ কমেছে এবং ফলনও বেড়েছে। এতে লাভ বেশি হচ্ছে। অন্য কৃষকরাও এই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে উপকৃত হবেন।”
মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার ও উপকারিতা দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ ধরনের মাঠ দিবসের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশের কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।