রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও  রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন 

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা ব্যারেজ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী কমিটি। একইসঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত, অবিলম্বে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজশাহীর পদ্মা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, কৃষি ও কৃষককে বাঁচানোর জোর দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১এপ্রিল) সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। উত্তরের অন্যতম সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে রাজশাহীর পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে বৃহত্তর রাজশাহীর উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক নারীকে প্রতিদিন বালতি বালতি খাওয়ার পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। যা এ জনপদের হাজার হাজার মানুষের প্রাত্যহিক যন্ত্রণার চিত্র। উত্তরের জেলা নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যে হারে নিচে নামছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয়; বরং এক ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাসূচক।
বক্তাগণ বলেন, গত এক দশকে একাধিক সরকার এখানে নানা প্রকল্প নিলেও তার সুফল মিলছে না। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের ঐতিহাসিক জনসভায় পদ্মা ব্যারেজ দ্রুত নির্মাণের অঙ্গিকার করেছিলেন। এতে রাজশাহীর মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে। এখন শুরু বাস্তবায়ন চাই। বক্তারা বলেন, এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন আছে। এখন বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার। তাই অবিলম্বে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহীর সভাপতি মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাপা‘র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বাপা রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি  লিয়াকত আলী, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, রাজশাহী কলেজের শিক্ষক ও বাপা রাজশাহীর সহসভাপতি জুয়েল কিবরিয়া, বাপা পবা উপজেলা সভাপতি রহিমা বেগম ও সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরী, রুলফাও এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান, বাপা সদস্য সম্রাট রায়হান, রাজশাহী জেলার কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হাসান, বাপা মোহনপুর উপজেলা নেতা আবদুস সালাম, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুপালী খাতুন, বাপা দুর্গাপুর উপজেলা সভাপতি একেএম মোহাইমেনুল হক রিন্টু, বাপা তানোর উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক মফিজ উদ্দীন সরকার, বাপা পুঠিয়া উপজেলা সভাপতি এনামুল হকসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবেশকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, সম্প্রতি সরকার এই অঞ্চলের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজাকে ‘পানিসংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে বিধিনিষেধ, নতুন নলকূপ স্থাপনে বাধা এবং পানি নির্ভর ফসল চাষ কমিয়ে আনার মতো একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাগজ-কলমে এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
বক্তাগণ আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে হলেও নতুন চুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ হতে এখনো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সমাবেশে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি করেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষকে বাঁচাতে পানি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য “পদ্মা ব্যারেজ” প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, “উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প”-এর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, পদ্মা নদী ড্রেজিং করতঃ নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে, নদী কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে হবে এবং ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হবে।
সমাবেশ থেকে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা অবহেলায় শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজশাহী মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আগেও আন্দোলন হয়েছে। এখানে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না হলে রাজশাহীবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আবারো তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধন থেকে রাজশাহী ও নাটোর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদীর উৎস মুখ থেকে পাবনার আটঘরিয়ার রেগুলেটর পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার অংশ খনন কাজ সম্পন্নের পাশাপাশি হোজা, বারনই ও বড়ালসহ এ অঞ্চলের নদী-খাল-বিল দখল ও দুষণমুক্ত করে পুনখনন করার জোর দাবি জানানো হয়।