রহমান ফিলিং স্টেশনের বে-রহম কান্ড !

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী  মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে তেল নিয়ে স্বজনপ্রীতি, সিন্ডিকেট এবং ভয়াবহ কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে।নামে রহমান হলেও তাদের বে-রহম কান্ডে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতাকে পুঁজি করে এই পাম্পটিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদের পকেট কাটার মহোৎসব চলছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ ও কঠোর নজরদারির কথা থাকলেও রহমান ফিলিং স্টেশনে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।এতে প্রতিদিন শত শত মানুষ তেলের জন্য এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।কিন্ত্ত পিছনের দরজা দিয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার  (৩১মার্চ) রাত থেকেই রহমান ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও সাধারণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্য কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলেও অধিকাংশ গ্রাহক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও তেল পায়নি।পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ বলে সাফ জানিয়ে দেয়।তবে এসময় পিছনের দরজা দিয়ে ডামে তেল নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাম্পের মালিক মিজানুর রহমান সাধারণ গ্রাহকদের উপেক্ষা করে তার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাহিদামতো
তেল সরবরাহ করছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে প্রভাবশালীদের ট্যাংক পূর্ণ করে তেল দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি এক লিটার তেল পাননি, অথচ মালিকের পরিচিতরা এসে অনায়াসেই তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করলে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও তাদের সহযোগীরা সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমান বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেলের অপরিহার্য চাহিদা থাকলেও কৃষকরা পাম্প থেকে তেল পাচ্ছেন না। কৃষক আল আমিন জানান, তেলের অভাবে পাম্পে দিনের পর দিন ঘুরেও তিনি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারেননি। সেচের অভাবে জমিতে ফাটল ধরছে এবং ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাতের আঁধারে এই পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল অবৈধভাবে বাগমারা, তানোর ও মান্দা এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। পাম্পে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাইরে কালোবাজারে দ্বিগুণেরও বেশি দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন।গত মঙ্গলবার (৩১মার্চ) ত্রিমোহনী বাজারে কাগজপত্রবিহীন প্রায় ২০০ লিটার ডিজেলসহ এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা এই পাচারের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।ওই তেল রহমান পাম্পের বলে কৃষকেরা অভিযোগ তুলেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও ট্যাগ অফিসারের নির্দেশনা মেনেই তারা তেল বিতরণ করছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে কেউ তেল না পেয়ে থাকলে তার দায়ভার পাম্প কর্তৃপক্ষের নয় বলে তিনি জানান।
এদিকে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার জানিয়েছেন, রহমান ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এই পাম্পের লাইসেন্স বাতিল বা কার্যক্রম স্থগিত করে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হোক যাতে কৃষকরা তাদের ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নির্বিঘ্নে পেতে পারেন।কারণ মোহনপুরের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। রহমান ফিলিং স্টেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ব্যক্তিস্বার্থ আর কালোবাজারিকে প্রশ্রয় দেয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপই পারে এই অরাজকতা থেকে কেশরহাটবাসীকে মুক্তি দিতে।