চলন্ত ট্রেনেই অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করলেন রাজশাহীর তিন চিকিৎসক

 

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্য খোদেজা বেগম যাচ্ছিলেন ঢাকায়। সাথে রয়েছেন স্বজনরা। সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার পর হঠাৎ খোদেজা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা দিশেহারা হয়ে ট্রেন পরিচালকের সহায়তা নিয়ে মাইকে এলাউন্সের মাধ্যমে ডাক্তারের সহযোগীতা চান। এমন ঘোষনা পেয়ে মানবতার ডাকে রোগী খোদেজা বেগমের কাছে ছুটে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন চিকিৎসক। প্রায় ঘন্টাব্যাপী পরিশ্রমের পর অসুস্থ খোদেজা বেগম স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পান। অর্থাৎ সুস্থ্য হন।

ঘটনাটি বুধবার (১০ জুন) বিকালের। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এই খোদেজা বেগম নামের ঐ বৃদ্ধা। চিকিৎসকের এমন মানবিক উদ্যোগে চলন্ত ট্রেনেই প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে স্বস্তি ফিরে পান রোগীর স্বজনরা। চিকিৎসকরা হলেন হলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিমান ইসলাম (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট), ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া আহমেদ এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ ইকবাল হাফিজ নোমানী।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, দুইবার পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফকারী খোদেজা বেগম উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনদের সঙ্গে রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ অতিক্রম করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, কোনো চিকিৎসক যাত্রী হিসেবে উপস্থিত থাকলে যেন দ্রুত এক্সট্রা-৩ বগিতে গিয়ে রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেন।

চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন, ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনের পর পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ না করায় তিনি হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত ঘাম ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়।
পরে তিন চিকিৎসক সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করেন। তাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে খোদেজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন।
এ সময় চলন্ত ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরাও চিকিৎসকদের মানবিক সেবায় মুগ্ধ হন। উপস্থিত যাত্রীরা করতালির মাধ্যমে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মানবতার সেবায় এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।