দৌলতপুরে সাপের আতঙ্ক: দুই সপ্তাহে ৮ জন আক্রান্ত, শিশুর মৃত্যু

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অন্য সাতজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে তিন নারী সাপের কামড়ের শিকার হন। এর একদিন আগে একই গ্রামের ১২ বছর বয়সী সিয়াম সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন শশীধরপুর গ্রামের মাসেদা খাতুন (৩৬), বিথী খাতুন (২৬), বিলকিস আরা (৪৯) এবং নিহত সিয়াম (১২)। এছাড়া গত ২ জুন থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। তারা হলেন ইন্তাজ আলী (৫৩), আল-আমিন (২১), তাইবা (১০) এবং লিপিয়ারা (২২)।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শশীধরপুরসহ আশপাশের এলাকায় সাপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠ, ফসলি জমি এমনকি বসতবাড়ির আশপাশেও সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

নিহত সিয়ামের পরিবার জানায়, রোববার রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের তিন নারী বাড়ির বাইরে থাকার সময় সাপের কামড়ের শিকার হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।

আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হলে হঠাৎ পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা সাপের কামড় নিশ্চিত করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট আটজন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে সিয়াম নামে এক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।