রাজশাহীতে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণ লুট

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা সাহেব বাজার স্বর্ণকার পট্টিতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা একটি স্বর্ণের দোকানের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, লুট হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ কয়েকশ ভরি হতে পারে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৯ জুন) রাত থেকে শনিবার (২০ জুন) সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময়ে। ডাকাতি হওয়া দোকানটি হলো কারুশ্রী জুয়েলার্স।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে মালিকপক্ষ চলে যান। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পুরো মার্কেট বন্ধ ছিল। শনিবার সকালে দোকান খুলতে গিয়ে ব্যবসায়ী দেখতে পান, পাশের আফিয়া জুয়েলার্স এবং কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন দেয়াল কাটা হয়েছে। পরে কারুশ্রী জুয়েলার্সের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, সিন্ধুক ভাঙা এবং স্বর্ণালংকার উধাও।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে সিন্ধুক ভেঙে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ঘটনাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তারা আফিয়া জুয়েলার্সের তালা পুনরায় লাগিয়ে রেখে যায় বলে ধারণা পুলিশের।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, শুক্রবার মার্কেট বন্ধ থাকলেও নিচের ফুটপাতে বিভিন্ন শ্রেনীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান বসিয়ে থাকেন। ফলে দিনভর সেখানে মানুষের উপস্থিতি ছিল। তাদের মতে, ডাকাতের ঐ চক্রটি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিনের কোনো এক সময়ে পরিকল্পিতভাবে দেয়াল কেটে থাকতে পারে। কারণ রাতের বেলায় মার্কেটে পাহারাদার থাকেন এবং দেয়াল কাটার মতো শব্দ সহজেই ধরা পড়ার কথা।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও কাজ করছেন। আশা করছি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহী জুয়েলার্স সমিতি এবং স্বর্ণ ব্যবসা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, ঘটনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং লুট হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণে এখনো তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।